‘প্রতিবেশীদের সাথে হবে নিজস্ব অর্থে লেনদেন, আলোচনা চলছে’

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩, ০১:১২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও লেনদেন যাতে নিজস্ব অর্থে করতে পারি, সেই পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। 

বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ন্যাশনাল স্কিম টাকা-পে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। এখন আমাদের টার্গেট হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আজ আমরা যে কাজটি করতে যাচ্ছি সেটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার একটি পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও স্বাধীন সার্বভৌম ব্যবস্থায় গড়ে তুলতে পারছি। আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে। কারণ, আমরা এখন যেসব কার্ড ব্যবহার করি সেগুলো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাও পে করতে হয়। এখন আর সেটা করা লাগবে না। আমাদের বিদেশি নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, নিজস্ব নেটওয়ার্ক আমরা ব্যবহার করব, যাতে তথ্য কেউ না নিতে পারে। প্রতিটি মানুষের তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ক্যাশলেস সোসাইটি করতে চাই। আজ যে ন্যাশনাল স্কিম টাকা পে অর্থাৎ ক্যাশলেস সোসাইটি করার যে পদক্ষেপ, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের ডিজিটাল সিস্টেমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে কাজ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সময় ‌‘আমার ঘর আমার স্কুল’ সেভাবে শিক্ষাব্যবস্থা করা, আমি নিজেই কত ভিডিও কনফারেন্স করেছি, যাতে আমরা কোনো ক্ষেত্রেই থেমে না যাই। যদি ডিজিটাল ব্যবস্থা না হতো আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল থাকত না। ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে সচল থাকে তার জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। শ্রমিকদের মজুরি, সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক কষ্ট না পায় তার জন্য আর্থিক সাহায্য করা, ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া— সবই করেছি। ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো আমরা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করতে পেরেছি।

মোবাইলে বৃত্তির টাকা পাঠানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে যে সত্যিকারের প্রাপ্য সেই পাচ্ছে, মাঝে কেউ নিতে পারছে না। শিক্ষক থেকে শুরু করে ছাত্রীদের বেতন ভাতা, পেনশন, সব কিছু সহজে দেওয়া যাচ্ছে। সবাই ডিজিটাল সিস্টেমে নিয়ে নিতে পারেন। অনলাইনে নিতে পারছেন, মোবাইল ফোনে নিতে পারছেন।


তিনি বলেন, আমি আজ খুবই আনন্দিত, আর কারো ওপর আমাদের নির্ভরশীল থাকতে হবে না। টাকা আমাদের দেশের, আমরা নিজেরাই ব্যবহার করবো। নিয়ন্ত্রণও আমরাই করবো। অন্যদের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবো। তবে একটা হার্ড কারেন্সির ওপর যাতে নির্ভরশীল না হতে হয়, সে ব্যবস্থাটা করেছি। আমি আজকে ন্যাশনাল কার্ড স্কিম ‘টাকা-পে’র শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাপকভাবে বেসরকারি ব্যাংক করে দিয়েছি। এখানে অনেক বাধা ছিল। অনেকে বলেছে, ছোট অর্থনীতি আমাদের, এতগুলো ব্যাংক অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে না। আমি বলেছি, আমাদের এই ছোট অর্থনীতি থাকবে না, বড় হবে। তখন এই ব্যাংকগুলো কাজে দেবে। আমাদের সে কথা এখন সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কীভাবে ‘টাকা-পে’র সুবিধাটা সহজ করার যায়, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। আমাদের প্রবাসীরা অনেক সময় বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মুদ্রায় কামাই করে। তারা সেখান থেকে ডলার কিনে দেশে পাঠাতে হয়। সে যাতে ওই দেশের মুদ্রা, সরাসরি টাকায় পাঠাতে পারেন ন্যাশনাল কার্ড স্কিম এর মাধ্যমে। সেই ব্যবস্থা সহজ করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা এখন ক্যাশলেস সোসাইটি করতে চাই। আজকের ন্যাশনাল কার্ড স্কিম ‘টাকা-পে’ বাংলাদেশের জন্য একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতদিন আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে কার্ড পরিচালনা হতো, অনেক খরচ হতো, অন্যের নিয়ন্ত্রণ থাকতো। এখন সব আমাদের দেশের মাধ্যমেই হবে। টাকা যেহেতু বাংলাদেশের। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশের। প্রায় সময় আন্তর্জাতিকভাবে বৈরি পরিবেশ হয়। সেক্ষেত্রে যেন আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাটা সচল থাকে, সেজন্যও এই পদক্ষেপ। এজন্য আমি অনেক বেশি আনন্দিত। এর পেছনে আরেকটা কারণ আছে যেটা এখন বলার দরকার নেই।

তিনি বলেন, ব্যবসা বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। শ্রমিকদের মজুরি ঠিকমত পেতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, এজন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটাও সেভাবে স্বাধীন সার্বভৌম করে গড়ে তুলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় জীবন থেকে অনেক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। ৭৫ পরে যারা ক্ষমতায় আসে তারা কিন্তু দেশটাকে জাতির পিতা যেখানে রেখে গেছেন, ধরে রাখতে পারেননি। অনেকের কাছে আমাদের হাত পাততে হয়। আমরা ক্ষমতায় এসে সে অবস্থার পরিবর্তন করেছি। স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যাবো, বলে স্থির করি। আজকের বাংলাদেশে কারো করুণা ভিক্ষা করে না। আমরা বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলি। আলাদা একটা মর্যাদার অবস্থান আমরা তৈরি করেছি।

মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। কার্ড ব্যবহার পদ্ধতির বিবরণ দেন বাংলাদেশে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক।

 

এআর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর