দেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জনে। এর মধ্যে ঢাকায় বাস করেন চার কোটি ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৬ জন। মোট জনসংখ্যার পুরুষ আট কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার, নারী আট কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আট হাজার ১২৪ জন। যেখানে নারী সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও পুরুষ সংখ্যা ৪৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
তাদের মধ্যে পল্লী বা গ্রামে বসবাস করেন এমন মানুষ ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ জন এবং শহরে পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ১০৭ জন।
মঙ্গলবার পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাস্তবায়িত দেশের প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ এর ন্যাশনাল রিপোর্ট প্রকাশ করে।
পরিসংখ্যান ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই রিপোর্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন।
বিবিএস জানায়, বিভাগভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ঢাকা শহরে। এর সংখ্যা চার কোটি ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৬ জন। এর পরে রয়েছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা।
তার মধ্যে চট্টগ্রামে তিন কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার, রাজশাহীতে দুই কোটি ৮০ হাজর, রংপুরে এক কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ৭১, খুলনায় এক কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার ২১৮, ময়মনসিংহে এক কোটি ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২, সিলেটে এক কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার ১১৩ এবং সবচেয়ে কম বরিশালে ৯৩ লাখ দুই লাখ।
২০২২ সাল পর্যন্ত বস্তিতে বসবাস করেন এমন জনসংখ্যার পরিমাণ ১৭ লাখ ৩৬ হাজার ৩০২ জন। যেখানে পুরুষের আধিক্য বেশি, এই সংখ্যা আট লাখ ৯৭ হাজার ৪০৩ জন। ভাসমান জনসংখ্যা ২২ হাজার ১৮৫ জন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৮ জন। ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যায় মুসলমান ৯১ দশমিক ০৮ শতাংশ , হিন্দু ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ , বৌদ্ধ শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ , খ্রিস্টান শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ ও অন্যরা শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
ধর্মভিত্তিক জনগোষ্ঠী
গত এক দশকে দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী বেড়ে। ২০১১ সালে ছিলো ৯০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ২০২২ এসে ৯১ দশমিক ০৮ শতাংশ। তবে এসময় হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। ২০১১ সালে ছিলো ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০২২ সালে তা এসে দাঁড়িয়ে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশে। আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা আগে ছিল শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। এখন তা কমে হয়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
প্রতি বর্গ কিলোমিটারে যতো জনের বাস
২০১১ সালে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯৭৬ জন বসবাস করলেও ২০২২ সালে এসে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাস করেন এক হাজার ১১৯ জন।
বিবাহিত/অবিবাহিত নারী-পুুুরুষের সংখ্যা
দেশে অবিবাহিত পুরুষ আছেন ৩৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে নারীর সংখ্যা ২২ দশমিক ০৪ শতাংশ। বর্তমানে বিবাহিত পুরুষের সংখ্যা ৬২ দশমিক ৭৬ শতাংশ আর নারী ৬৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
স্বাক্ষরতা
গত এক দশকে দেশে স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে। ২০১১ সালে ছিলো ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০২২সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।
সাক্ষরতার দিক থেকে এগিয়েছে পুরুষ, গড়ে তা ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। অপরদিকে নারীর সংখ্যা ৭২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
শিক্ষা ব্যবস্থা
সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও বেড়েছে কারিগরি শিক্ষায়। ২০১১ সালে গড়ে ৯৩ দশমিক ৭১ শতাংশ সাধারণ শিক্ষা নিলেও ২০২২ সালে এসেছে ৯৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। কারিগরিতে এ হার ২০১১ সালে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ আর ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ
শিক্ষা কর্মসংস্থান এমনকি ট্রেনিংয়েও নেই দেশে এমন জনসংখ্যা ৩৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। যেখানে নারী আছেন ৫২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
কৃষি
কৃষিতে নিয়োজিত ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ, সেবা খাতে নিয়োজিত ৪৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, কৃষিতে ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, কাজ করে না ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, কাজ খুঁজছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, কাজে নিয়োজিত ৩৭ দশমিক ২১ শতাংশ, গৃহস্থালী কাজে ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, নিজের বাড়ি আছে ৮০ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
গৃহ
নিজের বাড়ি আছে ৮০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ভাড়া বাসায় ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বিদ্যুৎ
দেশে ৯৯ দশমিক ২৪ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুৎ সুবিধা আছে।
প্রবাসী আয়
দেশে প্রবাসী আয় আসে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ পল্লীতে এবং ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শহরে।
মোবাইল, ইন্টারনেট
দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ, আর ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৩৭ শতাংশ মানুষ।
