ভোটের পর হুট করে চালের দাম বাড়তে থাকায় ঢাকা মহানগরের চলমান ওএমএস কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা আনা ও বাজার তদারকিতে চারটি দল গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার খাদ্য অধিদপ্তরের এক আদেশে অতিরিক্ত পরিচালক ও উপপরিচালকদের সমন্বয়ে টিমগুলো কাজ করবে বলে জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ‘চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের চলমান ওএমএস কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়ন ও বাজার তদারকি করার নিমিত্ত আকস্মিক পরিদর্শনের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপপরিচালকদের সমন্বয়ে চারটি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে।’
সাধারণ মানুষকে ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সহায়তা দিতে বর্তমানে ঢাকা মহানগরসহ সব সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস কার্যক্রমে চাল ও আটা বিক্রি চলমান আছে।
এর মধ্যেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আমন মৌসুমের নতুন ধান বাজারে আসার পরপরই এভাবে দাম বেড়ে যাওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
আড়ৎদাররা বলছেন, ধানের দাম বাড়তি বলেই সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমন মৌসুমেই চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বৃদ্ধি পাওয়াটা অযৌক্তিক।
রাজধানীর বাবুবাজার, মোহম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ও কারওয়ান বাজারের মতো বাজারে মিনিকেট ও বিআর-২৮ কেজিতে বেড়েছে ছয় টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০ টাকা থেকে ৭৪ টাকা এবং বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এসব বাজারে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে নাজিরশাইল ৬২ থেকে ৮৮ ও গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২ টাকা কেজি। পোলাওয়ের চালের দাম বেড়েছে আরও বেশি, ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে এক হাজার টাকা।
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, প্রতিদিন একটি দল খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তত চারটি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র (দোকান ও ট্রাকসহ) এবং দুটি বাজার পরিদর্শন করবে।
নির্ধারিত ছক মোতাবেক পরিদর্শন প্রতিবেদন পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যেই খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দাখিল করতে হবে।
আর দলের সমন্বয়কারী হিসেবে যারা থাকছেন, তারা মাঝে মাঝে মহাপরিচালকের অনুমতি নিয়ে তদারক দলের সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জরুরি পরিদর্শন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে
কেন বাড়ছে চালের দাম?