মিয়ানমার থেকে একজন রোহিঙ্গাও যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, মিয়ানমারে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাজ্য থেকে আসা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের চার সদস্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করার জন্য সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছেন।
মিয়ানমারে বুচিডংয়ে ফুমালি নামে একটি রোহিঙ্গা গ্রামে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জান্তা সরকারের মধ্যে শুক্রবার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বহু রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটছে।
সীমান্তের অদূরে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকরাও বেশ আতঙ্কিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ সংকটে রয়েছে। তাই নতুন করে কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, সেটি হঠাৎ করে হয়নি। এটি আরও কয়েকদিন আগে থেকে হয়েছে। আমাদের সীমান্তরক্ষীরা অনেক আগে থেকেই সেখানে সতর্ক রয়েছে। সেখানে কিছুদিন পরপরই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছি। তারা আমাদের সঙ্গে আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যদি মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে তারা তাদের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।
মন্ত্রী বলেন, মানবতার কারণে রোহিঙ্গাদের তখন স্থান দিয়েছিলাম। যেসব রোহিঙ্গা নাগরিক আমাদের দেশে এসেছে তাদের কারণে আমাদের নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এটি নিয়ে আমরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের এখানে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তাদের সদস্য রিক্রুট করার চেষ্টা করে। তারা আমাদের জন্য নানা সমস্যা। আমাদের দেশ জনবহুল, রোহিঙ্গাদের কারণে আমরা ভারাক্রান্ত। প্রতিবছর ৩৫ হাজার করে নতুন রোহিঙ্গা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
গাজা ইস্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার আপিলের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইসিজে যে রায় দিয়েছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। সাউথ আফ্রিকার আপিল আমরা ইতোপূর্বে সমর্থন জানিয়েছি। ভবিষ্যতে সাউথ আফ্রিকাকে যদি আরও সমর্থন দিতে হয় সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা হচ্ছে, সেটিও আইসিজের রায়ে বলা হয়েছে। সেখানে গণহত্যা হচ্ছে এবং সেটি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এই রায় ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা হচ্ছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
তৃণমূলের কোমর ভেঙে দিয়েছেন বিএনপি নেতারাই 