মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গভবনে উৎসব মুখর পরিবেশে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের এ সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সফররত ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুক যোগ দেন।
বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিকালে রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে কয়েক হাজার আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা মন্ডলী, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, তিন বাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতা, শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্য এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরের পর থেকেই বঙ্গভবন মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন আমিন্ত্রত অতিথিরা। শুরুতেই ভুটান রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুককে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
পরে ভুটান রাজাকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেক কাটেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর অতিথিদের সাথে নিয়ে মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং ভুটানের রাজা।
বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং সাংবাদিক নেতারাও সংবর্ধনায় যোগ দেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে ভুটানের রাজা ও রানী বঙ্গভবনে পৌঁছাণে রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী তাদের স্বাগত জানান। পরে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
পরে ভুটানের রাজা রাষ্ট্রপতির দেওয়া ইফতার ও রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রবাণীর পর বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের নামে ঢাকাকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ফেলে পাকিস্তানি বাহিনী।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা ইপিআরসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ হলেও পাকিস্তানি সেনাদের ভারী অস্ত্রের সামনে তা টেকেনি বেশিক্ষণ। মেশিনগান, কামানের গোলার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় শহরজুড়ে।
পৈশাচিক বর্বরতার মধ্যেই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে পাকিস্তানি বাহিনী। তার আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেশবাসীর উদ্দেশে তারবার্তা পাঠিয়ে যান তিনি, স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার হয় ইপিআরের ওয়্যারলেস বার্তায়।

সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি অন্তর্ভুক্ত করা আছে এভাবে, “ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।”
মরণপণ লড়াই চলে পরের নয়টি মাস। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় পায় বাঙালি। জন্ম হয় বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের। বাঙালির আত্মত্যাগ পরিণতি পায় বিশ্ব মানচিত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামের এক নতুন রাষ্ট্রের অবয়বে।
