ইসলামী ব্যাংকের আলোচিত তিন হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির তথ্য চেয়ে ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকসহ নাবিল গ্রুপের ১১টি কোম্পানিকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আলোচিত ওই ঋণ কেলেঙ্কারির তথ্য জানতে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী ব্যাংক থেকে নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করছে জামায়াত-শিবির চক্র। ২০১৭ সালে নতুন পরিচালনা পর্ষদ আসার পরও তা বন্ধ হয়নি।
তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপ, যাদের পিওন থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামে কাগুজে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।
নাবিল গ্রুপের ১১টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেড, নাবিল কোল্ড স্টোরেজ, নাবিল ফিড মিলস লিমিটেড,নাবিল অটো রাইস মিল, নাবিল অটো ফ্লাওয়ার মিল, শিমুল এন্টারপ্রাইজ,নাবা এগ্রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আনোয়ারা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নাবা ফার্মা লিমিটেড, নাবিল গ্রীন ক্রপস লিমিটেড ও ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্ট প্যালেস।
আলোচিত ঋণ জালিয়াতি ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. ইয়াছির আরাফাতের নেতৃত্বে কমিটিতে রয়েছেন আরেক উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার।
দুদকের চিঠিতে বলা হয়, ‘পর্যাপ্ত নথিপত্র ও জামানত ছাড়াই কোম্পানিগুলোকে ঋণ দেওয়া হয়েছে’- এমন অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা, রাজশাহী ও নিউমার্কেট শাখাও পাবনা শাখার গ্রাহক নাবিল গ্রুপের এই কোম্পানিগুলোর তথ্য চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের চাকতাই শাখার গ্রাহক মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান, একই জেলার জুবলী রোড শাখার গ্রাহক ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্স ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান, খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখার গ্রাহক সেঞ্চুরি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে দুদক।
নাবিল গ্রুপের পিওনকেও হাজার কোটির ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক! 