কোটা আন্দোলনকে ঘিরে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় নাশকতকারীদের হামলা ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মেট্রোরেল, বিটিভিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, সারা বাংলাদেশের আনাছে-কানাচে যে যেখানে আছে তাদের খুঁজে বের করুন, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সহযোগিতা করুন। আমি দেশবাসীর কাছে সেই আহ্বান জানাই।
সরকারপ্রধান বলেন, দেশবাসীকে বলবো, ঢাকাবাসীকে বলবো, যাদের জন্য আজ আপনাদের এই দুর্ভোগ, যারা ধ্বংস করলো, যাদের জন্য আজ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, আমি তাদের বিচারের ভার এদেশের জনগণের ওপরই দিয়ে যাচ্ছি। যারা এদেশের মানুষের রুটি-রুজির ওপর হাত দিয়েছে, রুটি-রুজির পথ বন্ধ করে দিয়েছে; তাদের বিচার জনগণকেই করতে হবে। কারণ এদেশের জনগণই একমাত্র শক্তি।
কেউ মিথ্যাচার চালিয়ে যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে কাউকে যেন বিভ্রান্ত করতে না পারে। (সবাই) আসল সত্যটা জানুক।

বিটিভিতে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকারে এসে এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে বিটিভিতে বিভিন্ন উন্নয়ন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত করেছি। কিন্তু আজ এত বছর পর এসে দেখা গেল সেই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যে নারকীয় তাণ্ডব তারই যেন একটা বীভৎস রূপ বাংলার মানুষ দেখছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিন্তু টেলিভিশনের ওপর হাত দেয়নি বা কেউই কখনও দেয়নি। কিন্তু আজ এই টেলিভিশন সেন্টারটাকে যারা এইভাবে পোড়ালো, একটা কিছু নেই যে রক্ষা পেয়েছে। তাহলে এরা কারা? এরা কি এদেশেরই মানুষ? এদের কি এ দেশেই জন্ম? একটা দেশকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার চিন্তা নিয়েই যেন তাদের এই আক্রমণ।
আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশটা আমরা অনেক কষ্ট করে স্বাধীন করেছি। আর আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। সেই মর্যাটাকে ধ্বংস করার জন্যই এই ধ্বংসযজ্ঞ।

বিভিন্ন সময় বিটিভিতে আসার কথা স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ অতীতের কথা মনে পড়ে। আমি কতবার এখানে এসেছি! প্রত্যেক নির্বাচনের আগে এখানে ভাষণ দিতে এসেছি। নানা অনুষ্ঠানে এসেছি। আজ যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখলাম এরপর এটা আবার কবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা যাবে, জানি না।
এ সময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো দেখে আমি আসলে আর কথা বলতে পারছি না। এক একটা জিনিস যখন গড়ে তুলি, অনেক কষ্ট করেই করতে হয়। দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করি। সেটাতো আমার দেশের মানুষেরই জন্য। একটা জিনিস এমনভাবে তৈরি করার চেষ্টা করি যাতে এগুলো শুধু দেশে নয়, বিদেশিদের কাছেও দৃষ্টিনন্দন হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দেশের যে উন্নতি করছি তার সিম্বল হিসেবে ব্যবহার হবে, সে জায়গাগুলো একে একে ধ্বংস করা হচ্ছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে। এত দিনের এত কষ্টের ফসল সব শেষ করে দিতে চাচ্ছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কষ্টের। দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই। আমি তাদের সহযোগিতা চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। দেশটাকে গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। আজকে সেখানে কী হলো? আজকে সেই সম্মানটা ধুলায় মিটিয়ে দিলো নিজেরা। ক্ষতি কার হলো? আমি জানি না যারা এই সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, তাদের কিছু আসে যায় না। কিন্তু সাধারণ মানুষ, তাদের মান-সম্মান কোথায় থাকবে? আরও দুঃখের বিষয়- লন্ডন থেকে নির্দেশ দেয়, যেখানে যেখানে বাঙালি আছে সেখানে সেখানে আন্দোলন করতে হবে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে তাদের অবস্থাটা কি লন্ডনে? আমাদের আওয়ামী লীগের ওপর হামলা করলো? পুলিশ এসে বিএনপির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পরিদর্শনকালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আমার কথা বিকৃত করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
মোটরকেডের পাইলটকে মেরে ফেলে রেখে দিয়েছিলো: প্রধানমন্ত্রী