গণমাধ্যম যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪, ১১:১২ পিএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশে চলমান সহিংসতায় গণমাধ্যম যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, মানুষের জীবন, মানুষের সম্পদ ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য শেষ অবলম্বন হিসেবে সরকার কারফিউ জারি করেছে ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।     

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশে চলমান সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে শনিবার রাতে একাত্তর মঞ্চের মুখোমুখি হন এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।  

একাত্তর টেলিভিশনের সম্পাদকীয় প্রধান নূর সাফা জুলহাজ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

নূর সাফা জুলহাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের কাছে প্রশ্ন রাখেন, কারফিউ পর্যন্ত যেতে হলো কেন, সময়ের যে ফোঁড়টা দরকার ছিলো, যে পদক্ষেপ নেয়ার দরকার ছিলো সেটা সরকার নিতে পারেনি, দুর্বলতার কারণে কিনা? 

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনাপ্রবাহ যদি ধারবাহিকতায় দেখা যায়, যেটা যখন উপযুক্ত ছিলো সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সেটা করেছে। আমি বলবো, সময় মতো করেছে প্রতিটি জিনিস। এই যে আন্দোলনটা হচ্ছে, এই আন্দোলন করার অধিকার নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একেবারে ছাত্র অবস্থায় আন্দোলন করা মানুষ। তিনি বাংলাদেশ সবচেয়ে এবং পৃথিবীর অন্যতম রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তিনি ছাত্র জীবনে, স্কুল জীবনে দেয়াল টপকে মিছিলে অংশগ্রহণ করা মানুষ। সুতরাং এই মানুষটার সাথে আন্দোলনের কোনো দূরের সম্পর্ক নেই।  

এটা কীসের আন্দোলন ছিলো? পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, আদালত সরকার নয়। আদালতে কেউ গেলো আদালত একটা আদেশ দিলো। সেই আদেশ আবার একাংশকে বা অনেককে বিক্ষুব্ধ করলো। সে জন্য সরকারই আবার আপিল বিভাগে গিয়ে সেটা স্থগিত করালো। তার মানেটা কী? সরকার যখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত আপিল কোর্টে স্থগিত করালো, পরিস্থিতি দাঁড়ালো দেশে আবার কোনো কোটা নেই। কোটা ছিলো না, আদালতের হস্তক্ষেপে কোটা ফিরে আসলো। কিন্তু সেই কোটা ফিরে আসা কোনো প্রভাব রাখার আগে, ওই সাতদিনে বা দশদিনে কোনো নিয়োগ হয়নি। সুতরাং ওই আদেশের কোনো প্রভাব নেই। সেটা আবার স্থগিত হয়ে গেলো। তার মানে দেশে আর কোটা নেই। ঐ আদেশ পর্যন্ত আন্দোলন এগিয়ে যাওয়ার কী যৌক্তিক কারণ ছিলো? একটা দেশে কোটা বিরাজমান নয় কিন্তু কোটা বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে।

সঞ্চালক নূর সাফা জুলহাজ বলেন, আমরা যদি ঘটনা প্রবাহ দেখি, ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ এর পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর শিক্ষার্থীরা ৯ জুন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এবং ২০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলো সরকারকে। গোটা জুন গেলো এবং শিক্ষার্থীরা নানাভাবে তাদের বক্তব্য হাজির করলো। পরবর্তীতে পহেলা জুলাই থেকে তারা টানা আন্দোলনে আছেন এবং সেই সময় সরকার বারবার বলেছে, এটি আদালতে আছে। এখানে নির্বাহী বিভাগের কিছু করণীয় নেই। এই পুরো সময়কালে শিক্ষার্থী যেমন আদালতে ছিলো, আন্দোলনে ছিলো। সরকার আদালতে যেমন রয়েছে, শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় থাকতে পারতো কিনা। তাদের দাবিদাওয়াগুলো শুনতে পারতো, বিষয়টিকে আমলে নিয়ে যুক্ত হতে পারতো কিনা? যেটা সরকার করেনি বলে অভিযোগ। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, এই অভিযোগ ভুল। কারণ হলো সরকার আলোচনায় ছিলো, যোগাযোগে ছিলো। পরিস্থিতি তখন এতো গুরুতর হয়নি। যে কোটার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে, এটার অস্তিত্ব ছিলো না। সমস্যার সূত্রপাতও আদালতে, সরকার বলেছে এটা আদালতে শেষ হয়ে যাবে। আলোচনা তো এটা। এমনকি ছয়জনের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তৃতা দিলেন, তখন উনি উদ্বিগ্ন হয়ে গেলেন যে এটা এমন হওয়ার কথা না। উনি বললেন, তারা যেটা চাচ্ছে আদালতে পেয়ে যাবে। তারা যেন একটু ধৈর্য ধরে। তাদেরকে ইতিমধ্যে প্রস্তাব দেয়া হলো, আদালতে যেতে। তারা আদালতে গেলো। সুতরাং আলোচনার যায়গায় তো আদালতও।   

কোটা মেধার বিরুদ্ধে এই ধারণা পুরোপুরি ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো গণমাধ্যম এটা মানুষকে বোঝাতে সাহায্য করেনি। গণমাধ্যমের দায়িত্ব কী? তথ্য দেয়া, বুঝতে সাহায্য করা, ব্যাখ্যা করা। এখন গণমাধ্যম তাদের বোঝালোই না। 

নূর সাফা জুলহাজ বলেন, গণমাধ্যমের যে দায়িত্ব, সেই একই দায়িত্ব সরকারের নানা পর্যায়ের, নানা পক্ষের দায়িত্বশীলদেরও ছিলো। আন্দোলনটা এমন সহিংস যায়গায় চলে গেলো, সরকার যেটাকে বলছে তৃতীয় পক্ষ আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। সেটা সরকার কেন আগে ধারণা করতে পারলো না, সরকারের তথ্য প্রাপ্তির দুর্বলতা কোথায়? যে কারণে পরবর্তীতে আদালতের রায় এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার ভূমিকা নিলো, সেই একই ভূমিকা আলোচনা ক্ষেত্রে নিলো না কেন?             

উত্তরে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, এখানে দুর্বলতা নেই। একটা সজাগ মানুষকে ঘুম থেকে তোলা যায় না। আমি গণমাধ্যমকে দায়ী করছি না। আমি মনে করি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। মেধা আর কোটাকে মুখোমুখি আনা হয়েছে। আসলে মেধা এবং কোটা সহাবস্থান করে। কোটা তখনই কার্যকর হয় যখন মেধার সবগুলো ধাপ যখন কেউ অতিক্রম করে।

একাত্তর টেলিভিশনের সম্পাদকীয় প্রধান ও একাত্তর মঞ্চের সঞ্চালক নূর সাফা জুলহাজ।

তিনি আর বলেন, সরকার বলছে তৃতীয় পক্ষ, এই তৃতীয় পক্ষ একটা নয়। নানা পক্ষ এসে কি বেনিফিট নিতে পারে, কোটা না অন্য কোনো কিছু। তাদের অন্যকোনো রাজনৈতিক বা অন্যকোনো উচ্চাভিলাষ, অন্যকোনো স্বপ্ন আছে। যারা আন্দোলনের সূত্রপাত করলো তারা অধিকাংশই দৃশ্যপটে নেই। তারা এটা বুঝতে পেরেছে, তাদের দাবি আসলে অর্জিত হয়ে গেছে।    

সঞ্চালক জুলহাজ বলেন, সরকার এখন যে প্রশ্নের মুখে পরল, শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছিলো সেটা সরকার দমনপীড়নের মধ্যদিয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছে। সে বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

দমনপীড়ন হলে প্রথমদিন থেকে হতো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, শুরু থেকেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিয়েছে। সরকার খারাপটা করলো কোথায়? সরকারের দায়িত্ব দমনপীড়ন না করা, এটা সত্য। কিন্তু সরকারের আবার এটাও দায়িত্ব, অনেক মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা, রক্ষা করার চেষ্টা করা। সরকার যদি পদক্ষেপগুলো না নিতো, ভাঙচুর বেশি হতো, আরও বেশি মানুষ মারা যেতো। 

শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে ছিলো, ১৫ এবং পরবর্তীতে ১৬ তারিখের ঘটনা প্রবাহ 

অভিযোগ এসেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যেভাবে বলেছেন, ১৫ তারিখ রাতের রাজাকার স্লোগানকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিস্থিতি হলো সেটার জবাব ছাত্রলীগ দেবে। যদি আইনশৃঙ্খলা ইস্যু হিসেবে সরকার দেখে থাকে তাহলে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কীভাবে বলেন ছাত্রলীগ জবাব দেবে?

সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্ররা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের একটা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে রাজাকার স্লোগান দিয়েছে। এটা একটা রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে যায়। এটা জনশৃঙ্খলার ইস্যু না যে, পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করবে। এটা কিন্তু মারামারি না, ভাঙচুর না। একজন রাজনৈতিক নেতা বলেছেন, ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এইটুকুর মধ্যে আমি কোনো ভুল দেখি না। রাজাকারের মতো একটা ঘৃণিত শব্দ স্বাভাবিক করার যে অপচেষ্টাটা সেদিন রাতে হয়েছে, সেটার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের ভূমিকা থাকতে পারে বলে তাদের একজন নেতা বলতে পারেন না? 

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ছাত্র সংগঠন যে ধরনের ভূমিকা নেয় তা আসলে একটা সহিংস পরিস্থিতিকে উসকে দেয়? এ প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, আমি মনে করি রাজনীতি, ছাত্রদের আন্দোলন বা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ভুলত্রুটি হতেই পারে। মেধা এবং কোটা পরস্পরবিরোধী না। কারণ কোটা শুরু হয় মেধার কাজ শেষ হওয়ার পরে। 

জুলহাজ প্রশ্ন রাখেন, মেট্রোরেল, বিটিভিসহ বহু সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে, এর সাথে প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমগুলো প্রাণনাশের ঘটনা আসলে কতোটা তুলে ধরতে পেরেছে। বিবিসি, আল জাজিরা, সিএনএনের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো প্রাণনাশ ও সহিংসতার বিষয়গুলো সামনে এনেছে। সেখানে আবার নাশকতার বিষয়গুলো সামনে নেই। কিন্তু প্রাণনাশের বিষয়টি সরকার নিরূপণ করেছে? এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হবে সেই আস্থা কতোটা তৈরি করতে পারছে? 

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, সরকার একটা তথ্য দিয়ে দিলে হবে না। সরকারকে এটার পুরো তথ্যানুসন্ধান করতে হয়। একটা মানুষ মারা গেছে বললে হবে না তার পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়। কোন কোন ঘটনাপ্রবাহে সে মারা গেছে এগুলো খোঁজখবর নিয়ে করতে হয়। অচিরেই দেখা যাবে, সরকার যেটুকু নিশ্চিত হতে পারছে সেটা প্রকাশ করবে। এর জন্য সময় দিতে হবে। এতে সুষ্ঠু বিচার হবে না, নির্ভরযোগ্য হবে না। সময়ের কাজ সময়ে করা হচ্ছে। 

আরও নাশকতা করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে অসত্য তথ্য, ভুল তথ্য, বিকৃত তথ্য বা গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি আরও বেশি। সেটা বন্ধ হতে পারে যদি সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিভিশন মুক্ত থাকতে পারে। এই সময়ে বাংলাদেশে সম্প্রচার মাধ্যম টেলিভিশন যা পরিস্থিতি ঘটছে তার অনেকটা চিত্র তুলে ধরতে পারছে, এই যায়গায় টেলিভিশনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কিনা?   

সঞ্চালকের এ প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে মৃত্যুর খবরগুলো দিয়েছে। তারা এই সংখ্যা এবং নিহতদের পরিচয় সরকারকে দিতে পারে। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যাদের জীবননাশ হয়েছে তাদের সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী, উদগ্রীব। তথ্যের জন্য তো কারো বিরুদ্ধে মামলা হবে না। তথ্যটা দিলে তাদের সাহায্য করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, তালিকাগুলো আসুক। তিনি হাসপাতালে যখন আহতদের দেখতে যান তখন কাউকে বিভাজন করেননি। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটা মানুষ মারা গেলে তার দ্বায়িত্ব উনি নেবেন। উনি আরও বলেছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। 

নূর সাফা জুলহাজ আরও প্রশ্ন রাখেন, একটা কার্যকর সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রলম্বিত হবে না, এটা দ্রুত হবে, এটা সুষ্ঠু হবে, সেই আস্থা তৈরির কাজটি সরকার করতে পারছে কিনা? 

এ বিষয়ে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারও উনি দ্রুত ট্রাইব্যুনালে করেননি। এই দেশের জাতির পিটার বিচার ঊনই সাধারণ আইনে করেছেন। কেন করেছেন? কারণ উনি গণতন্ত্রের নেত্রী। সময় মানে যথাযথ সময়। দ্রুত করা সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না। দ্রুত অন্যায় হয়ে যেতে পারে। এটা একটি জটিল পরিস্থিতি। 

অবাধ তথ্য প্রবাহে নানা ধরনের বাধা, যেই কারণে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মানুষের কাছে। গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন কি আসলেই দেশ জাতির সংকটে গণমাধ্যম ভূমিকা নিতে পারে? সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলের সমস্যা থাকতে পারে, দুর্বলতা থাকতে পারে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো দুর্বলতার জন্য এই ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার প্রবাহের সাথে জনসম্পৃক্ততার কোনো ইস্যু হয়ে দেখা দেয়নি। 

তিনি আরও বলেন, এটার মধ্যে এক ধরনের জনসম্পৃক্ততা ঘটেছে আন্দোলনের সঙ্গে। এটা বড় মাপের নয়। কীভাবে বড়মাপের না, সেনাবাহিনী নেমেছে কারফিউ জারি হয়েছে। কিন্তু সেটা এখন ধাপে ধাপে চলে যাচ্ছে। ইন্টারনেটের সমস্যা যেটা দেখা দিয়েছিলো সেটা কেটে যাচ্ছে। শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার এসব ব্যবহার করবে না? তা না করলে তখন বলবে, সরকার কিছু করেনি। সরকারের জন্য সাধারণত সবই চ্যালেঞ্জিং। 

সঞ্চালকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারে বাধা নেই। কিন্তু অপতথ্য, ভুল তথ্য, ভুল প্রচারে বাধা আছে। কোনো সংবাদমাধ্যম একটা সংখ্যা লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের সাহায্য করতে চান। আপনারা সরকারকে তালিকাটা দিন। তালিকা ছাড়া সংখ্যা নির্ধারণ করেন কীভাবে? নাম ছাড়া, প্রমাণ ছাড়া কোনো দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম এটা করতে পারে না। নিশ্চিত তথ্য দিতে হবে, কারণ এটা যেকোনো গণমাধ্যমের প্রাথমিক দায়িত্ব।        

নূর সাফা জুলহাজ আরও প্রশ্ন রাখেন, সরকার এটা কবে নাগাদ নিরূপণ করতে পারবে যে, এই ঘটনা প্রবাহে কতজনের মৃত্যু হয়েছে?   

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, আমি বলবো এটা খুব দীর্ঘ ব্যাপার হবে না। আমি এটুকু বলতে পারি কাজ চলছে। কিন্তু সরকারকেও চিন্তা করতে হয় যে, এই তথ্যটা দিলে শান্তি আবার বিনষ্ট হবে কিনা। সরকারকে অনেক দায়িত্ব নিয়ে বলতে হয়। সরকার তথ্যানুসন্ধান পর্বে আছে, যতোটুকু তারা নিশ্চিত ততটুকু তারা নিশ্চয় প্রকাশ করবে। 

আরবিএস
আয়না যেমন নিখুঁত না হলে মানুষের চেহারার বিকৃত প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, তেমনি গণমাধ্যমও যদি বস্তুনিষ্ঠ না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে ভুল প্রতিচ্ছবি জনগণের সামনে উপস্থাপিত হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। 
দেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার নিজের পক্ষ থেকে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সরকার একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর