বিদ্যুৎতের দাম ভোক্তা পর্যায়ে না বাড়িয়ে বরং উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পে পলিসি নিয়ে ব্যয় সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি।
বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে যতদ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে অডিট করারও দাবি তুলেছে সংস্থাটি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার সিপিডির প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ খাতের আইনগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পে অনুযায়ী, চুক্তি সংশোধন করলে, ভর্তুকির চাপ কমবে। গ্রাহককে বাড়তি দাম দিতে হবে না বলেও আমরা মনে করছি।
তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিশেষ আইন বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে জবাবদিহিতা বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১০০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে সিপিডি। এছাড়া উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে বছরে বিপিডিবির ক্ষতি হচ্ছে ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি এবং বেসরকারি কোম্পানির কাছে বকেয়া বিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ৩৭ হাজার ৯৩ কোটি টাকার বাড়তি বোঝা টানতে হচ্ছে।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রথমে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংস্কারে মনোনিবেশ করতে হবে। সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে এই সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রথমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বিশেষ আইন ২০১০ বাতিল করতে হবে।
তিনি বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সঙ্গে তাদের শুল্ক পুনর্নির্ধারণের জন্য পুনরায় আলোচনা করা, বিশেষ করে যেসব কোম্পানিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি রয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যূনতম সময় পার করেছে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, তৃতীয় পদক্ষেপ হতে হবে, যেসব কোম্পানি বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির জন্য অযাচিতভাবে নির্বাচিত হয়েছে, তাদের সঙ্গে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বাতিল করতে হবে।
এ খাতের জন্য ১৭টি সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে জোর দিতে হবে।
সিপিডির দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তি চুক্তি পর্যালোচনা করা হোক।
সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। যার বড় অংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা আছে ভর্তুকি বাবদ। আর এ টাকার সংস্থানের পরিকল্পনা ছিল বিদ্যুৎতের দাম বাড়িয়ে। তবে সিপিডি পরামর্শ দাম আর না বাড়ানোর।
টেকসই জ্বালানিখাত প্রতিষ্ঠায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহনের তাগিদ দিয়ে সিপিডির দাবি, বিপিসি, বিপিডিবি, পেট্রো বাংলাসহ সরকারি সংস্থাগুলো নিরপেক্ষ অডিট করা হোক শিগগিরই।
বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন সংস্কারের পাশাপাশি বিইআরসির স্বায়ত্বশাসন ফিরিয়ে আনার পরামর্শও দেয়া হয় ব্রিফিংয়ে।
সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি নীতি যেন পরিবর্তন না হয় তা নিশ্চিতে কঠোর আইন করারও পরামর্শ দেয়া হয় এসময়।
পরিমার্জন করে আগের শিক্ষাক্রমে ফেরা হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা