বেক্সিমকোকে ব্যাংক ঋণ দেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এর সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ বিদেশে চলে গেলে প্রয়োজনে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার বেক্সিমকো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
এসময় অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িতদের আত্মসমর্পণ করে তদন্তের মুখোমুখি হওয়ারও আহ্বান জানান শ্রম উপদেষ্টা।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বেক্সিমকোর নামে ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া টাকা কোথায় গেছে সেটাও আমরা জানি না। এর সঙ্গে ১৩টি ব্যাংক জড়িত। প্রত্যেক ব্যাংক, সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন- যারা এই টাকা দেওয়ার পেছনে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। গতকালও আমার তরফ থেকে এ বিষয়ে ব্যর্থহীন ঘোষণা গিয়েছে। এটি আমাদের মিটিং এর কার্যবিবরণীতেও লেখা আছে।
তিনি বলেন, এটা মনে করবেন না যে, বিদেশে চলে গেছেন। বিদেশে যারা গেছেন হয় তারা আসবেন, না হয় সেখানে আটকা পড়বেন। আমি জানি না কি হবে। আমি এরই মধ্যে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি। দরকার হলে তদন্তের পরে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করতে হবে।
আমরা এভাবে লোকদের ছেড়ে দিতে পারি না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, যারা এতগুলো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তারা তো শান-শওকতে এখানেও আছে বিদেশেও আছে।
শ্রম উপদেষ্টা বলেন, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশে থাকেন বা বিদেশে থাকেন। যারা বিদেশে চলে গেছেন আমি তাদের অনুরোধ করবো, আপনারা দেশে এসে আত্মসমর্পণ করুন। আর যদি মনে করেন এভাবে চলে যাবে, আগামীতে কি ঘটবে সেটা আল্লাহ জানেন। তাই বলছি আত্মসমর্পণ করুন, তদন্তের মুখোমুখি হন, যদি নির্দোষ হন বিদেশেই থাকবেন।
অনেকে দেশের বাইরে সিটিজেনশিপ কিনেছেন জানিয়ে তিনি যোগ করেন, সিটিজেনশিপ হলেও বাংলাদেশে আইনে সেটা প্রযোজ্য হবে বলে আমি মনে করি। বিদেশে থাকবেন আর এখানে গণ্ডগোলের মধ্যে ফেলবেন সেটা হবে না।
সেনাপ্রধান না বুঝে কোনো কথা বলেননি: এম সাখাওয়াত হোসেন
বেক্সিমকোর ১৪ কারখানা স্থায়ী বন্ধ, সব শ্রমিক ছাঁটাই