অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো লোকবল সংকট উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্নীতি বন্ধে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক বছরে সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো লোকবল সংকট। এই মুহূর্তে সারাদেশে প্রায় সাত হাজার চিকিৎসকের সংকট আছে। তিন হাজার ডাক্তার খুব শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ডিজিটালাইজেশন করা হবে, যেন দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ না থাকে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নূরজাহান বেগম জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই শহীদদের ত্যাগেই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ছিলো অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। যার মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি আহতদের তালিকা তৈরি এবং যাচাই-বাছাই করে ১২ হাজার ৪২ জনকে সরকারি গেজেটভুক্ত করা হয়। এদের সবাইকে সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত ৭৮ জন আহতকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। আরও অনেকের বিদেশে চিকিৎসার প্রক্রিয়া চলমান।
নূরজাহান বেগম জানান, সরকার স্বাস্থ্যখাতের প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজিয়েছে। মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ও ইনস্টিটিউট পরিচালকের পদায়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে। সুপার নিউমারারি পদ সৃষ্টি করে ৭ হাজার চিকিৎসককে পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৬টি বিষয়ে ৮০০ জন চিকিৎসক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
চিকিৎসক সংকট নিরসনে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া আরও সাড়ে ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান।
এদিকে গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে হটলাইন, আউটডোর সাইকিয়াট্রিক সেল ও আউটরিচ প্রোগ্রাম চালু করেছে। ইতিমধ্যে অনেকে সরাসরি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নূরজাহান বেগম বলেন, মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের চিকিৎসা দিতে সিঙ্গাপুর-ভারত থেকে ডাক্তার আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিপুল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। যা করেছি সেটা দায়িত্ববোধ থেকেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু, প্রধান কাজ নির্বাচন: শফিকুল আলম
গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া এই সরকারের প্রধান কাজ: প্রেস সচিব
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছয় মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন