আগামী পাঁচ দিন সারাদেশে শীত ও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেয়া সবশেষ পূর্বাভাসে এ কথাই বলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেয়া এই পূর্বাভাসে কুয়াশার কারণে জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবার সতর্কতাও দেয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান স্বাভাবিক লঘুচাপের একটি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

ঘন কুয়াশা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশার কারণে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কুয়াশা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার সতর্কতা
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাপমাত্রা ও শীতের অনুভূতি
৩১ ডিসেম্বর: সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে হাড়কাঁপানো শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
১ ও ২ জানুয়ারি: এই দুই দিন আকাশ আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে ২ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রার তেমন কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
৩ জানুয়ারি ও পরবর্তী সময়: পাঁচ দিনের মেয়াদের শেষের দিকে রাতের তাপমাত্রা আবারও কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীতের তীব্রতাকে পুনরায় বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাতায়াতকারীদের জন্য পরামর্শ
ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যাতায়াতকারীদের দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ফেরি পারাপার বা দূরপাল্লার বাসে ভ্রমণ করবেন, তাদের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সময় হাতে নিয়ে বের হবার অনুরোধ জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় ও লঘুচাপের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশেই শীতের এই অনুভূতি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
