দেশের চলমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলা ও দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি নতুন কূপ খননের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে ৩০টি কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে এবং আরও সাতটি কূপের খনন চলমান রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্যাবলি তুলে ধরেন। ৩০ মিনিটের এই প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান সরকারপ্রধান।
অধিবেশনে জ্বালানি সঙ্কট সমাধানের পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিলো। সেই পঙ্গু অবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার।
গ্যাস সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মহেশখালীর কুতুবজুমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সৌর বিদ্যুতের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী গৃহস্থালি পর্যায়ে বিশেষ প্রণোদনার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়িতে ‘রুফটপ সোলার’ বা ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তাদের কাছ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইউনিট প্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে সরকার। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনকেও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সোলার সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসার কথা জানান তিনি।
সৌর প্যানেল স্থাপনে কর ছাড়ের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে গত আট জুন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের অপরিহার্য উপাদান যেমন—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারির ওপর আরোপিত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক ও আগাম কর থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে রুফটপ সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় কর্মসূচি ও গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয়ে এই প্যানেল স্থাপন শেষ হয়েছে। সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সংকট কাটানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের প্রথম তিন বছরে ব্যাংক, রাজস্ব ও সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
