আগামী দুই মাসের মধ্যে অবৈধভাবে দখল করা সব জায়গা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম বন্দরকে পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জমি অবৈধভাবে লিজ প্রদান ও দখলের বিষয়টিতে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা দ্রুত উদ্ধারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বন্দরের কয়েকটি জায়গার লিজ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জায়গার লিজ বাতিলের পর দুটি স্থান পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অপর একটি জায়গার বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জমিজমা জটিলতা নিরসন ও বন্দরের আধুনিকায়ন: চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু জমি নিয়ে রেল মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরকালে তিনি বিষয়টি সশরীরে সরেজমিন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলো সালিশি বা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে আগামী দুই মাসের মধ্যে বন্দরের আর কোনো জমি অবৈধ দখলের অধীনে থাকবে না।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতির কথা উল্লেখ করে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোনো জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য বন্দরে এসে দীর্ঘ সময় জটলায় বসে থাকতে হচ্ছে না। ডিপ সি বা বার্থে ভেড়া জাহাজগুলো এখন মাত্র দুই দিনের মধ্যে পণ্য খালাস ও লোড সম্পন্ন করে ছেড়ে যেতে পারছে, যা আগে সম্পন্ন করতে ৮ থেকে ১০ দিন লেগে যেত।
বর্তমানে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে এবং রেকর্ড কনটেইনার ওঠানামা করছে। পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আন্তর্জাতিক মানে পরিচালিত হচ্ছে এবং লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) পদ্ধতিতে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে, যা প্রায় ৩ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
নৌপথ ড্রেজিং, ঢাকার নদীদূষণ ও ওয়াটার বাস চালুর নতুন উদ্যোগ: ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে এবং নতুন করে আরও প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম গতিশীল রয়েছে।
ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গাসহ পাঁচটি নদীর দূষণ নিরসনে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন:
- দূষণ স্পট চিহ্নিতকরণ: ঢাকার নদীদূষণের মূল উৎস হিসেবে ৪২৪টি স্পট সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- সমন্বিত উদ্যোগ: নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে ওয়াসা, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।
- ওয়াটার বাস প্রকল্প পুনরায় চালু: গত ১০ বছরে ওয়াটার বাস প্রকল্পে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হলেও বিআইডব্লিউটিএ লোকসানের কারণ চিহ্নিত করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার রিং ওয়াটারওয়েতে নতুন করে ওয়াটার বাস চালুর আশা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসন-৩৯-এর সদস্য সাবিকুন্নাহারের নদী দখল সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ দখলের তালিকা তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তার আবেদন জানায়, কারণ সরাসরি জমি উচ্ছেদের একক আইনি ক্ষমতা সংস্থাটির নেই। প্রশাসনের লজিস্টিক সাপোর্টের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযান কাঙ্ক্ষিত গতি পায় না বলেও সংসদকে অবহিত করেন নৌমন্ত্রী।
ডিজিটাল নিবন্ধন ও কিউআর কোড প্রযুক্তিতে আসছে অটোরিকশা
ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ কমেছে: ধর্মমন্ত্রী
দুই ধনী দেশ থেকে জাবেদ-নজরুলের নথি দুদকের হাতে