দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎপরতায় বিদেশে পাচার করা অবৈধ সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। যুক্তরাজ্যের আইল অব ম্যানে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের একটি কোম্পানির সম্পদ জব্দ করেছে দেশটির সরকার, অন্যদিকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের নথিপত্র পাঠিয়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই।
দুদকের টাস্কফোর্সের তালিকায় থাকা নাসা গ্রুপের বিরুদ্ধে আগেই যুক্তরাজ্যসহ তিনটি দেশে ৩৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পাঁচটি বাড়িসহ বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। এসব অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চিঠি দিয়েছিল দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই চিঠির সূত্র ধরেই যুক্তরাজ্যের আইল অব ম্যান প্রশাসন নাসা গ্রুপের সম্পদ জব্দ করেছে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যে দুদকের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর মার্কিন সম্পদের খতিয়ান: যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রেও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। বাংলাদেশের এই দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) দেশটিতে থাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের বিস্তারিত খতিয়ান ও নথিপত্র ঢাকায় পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশের পাঠানো ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে তদন্তসংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনে বর্ণিত সম্পত্তির রেকর্ড পাঠানো হয়েছে। এসব নথি একটি সিডিতে সংযুক্ত করে দুদকের কাছে পাঠানো হয়। তবে এমএলআএ-তে চাওয়া সব তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুরোধ করা অন্যান্য রেকর্ড ও তথ্যের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্তর দেওয়া হবে।
আহমেদ কায়কাউস ও ওবায়দুল করিমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ: বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত আরও দুজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে দুদক।
ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে। সোমবার এই অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের নতুন অভিযোগ যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদক।
এছাড়া ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আদেশ গোপন করে সুকৌশলে নিম্ন (বিচারিক) আদালত থেকে জামিন নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই প্রতারণার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
পরিচয় দিয়েও বাঁচতে পারেননি এসআই আলতাফ
এবার ডেঙ্গুর দুইটি সেরোটাইপের যৌথ থাবার আশঙ্কা