দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তাদের ৯টা-৫টার বাঁধা ধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের পরিবর্তনের স্বার্থে সবাইকেই নিজ নিজ অবস্থান ও সক্ষমতার জায়গা থেকে কিছুটা বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি, গাছ রোপন ও পরিচর্যার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সার্বিক সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় এক বা দুই নম্বরে থাকছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এই ভাবমূর্তি ও পরিবেশ বদলাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে নির্ধারিত দায়িত্বের অতিরিক্ত কিছু করার মানসিকতা রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ দিয়েছেন। আপনি কেবল নির্দিষ্ট সময় অফিস করে চলে গেলে কেউ হয়তো কিছু বলবে না, কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম।
সভায় বনায়ন ও পরিবেশ সুসংহত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
- মাদার ট্রি সংরক্ষণ: আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশের সব 'মাদার ট্রি' চিহ্নিত করে তা স্থায়ী সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- গাছের পরিচর্যা ও নিবিড় তদারকি: ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বিশাল পরিকল্পনার পাশাপাশি চারাগুলো ঠিকমতো টিকে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে তদারকি ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। অন্য কোনো মন্ত্রণালয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গাছ লাগাতে ব্যর্থ হলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
- পাহাড় ও শহুরে সবুজায়ন: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধির নতুন উপায় খোঁজার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ছাদবাগান ও স্কুলবাগানে উৎসাহিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
মানুষের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিনোদনের এমন সবুজ চত্বর বা পরিসর বাড়াতে জোর দেন। সেই সাথে পরিবেশ সুরক্ষায় সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে পৃথক জনসচেতনতামূলক পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললো, বিনা খরচে যাবে ১০ হাজার কর্মী