পানি যে কত গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের কত শত কাজে লাগে; প্রতিদিনের জীবন যাপন থেকেই তা আমরা বুঝতে পারি। বেঁচে থাকার জন্য, জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য। অপরিহার্য অনেক কিছুই যেমন বাতাস; তারপরও ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি পড়ে আসছি, পানির অপর নাম জীবন।
পানির প্রাচুর্য অবাক করার মতো! পৃথিবীর তিন ভাগের দুই ভাগই জল- এমন কথা আমরা বলি বটে, আসলে পানির পরিমাণ তার চেয়েও বেশি। খাল-বিল, পুকুর-হ্রদ, নদী-সমুদ্রে পানিরই রাজত্ব। মেরু অঞ্চলে পানি জমে আছে বরফ হয়ে আর বাতাসে জলীয় বাষ্প রূপে।
আমাদের শরীরও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের শরীরের অর্ধেকের বেশিই পানি। শরীরের প্রতিটি কোষে আছে পানি। কোষের ফাঁকে ফাঁকেও আছে পানি। আর রক্তে তো পানির পরিমাণ ৯০ শতাংশ। পানি না থাকলে আমাদের শরীর ঠিক মতো কাজই করতে পারতো না! শরীরে পানি স্বল্পতা যেমন ক্ষতিকর তেমনি ক্ষতিকর পানির আধিক্য। আবার পানি শরীরের যেখানে যে পরিমাণে থাকার কথা তার চেয়ে কম-বেশি হলেও বিপদ। তখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।

বুকের ভিতরে পানি জমা হলে এমনটি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম প্লুরাল ইফিউসন (Pleural Effusion)। প্লুরা দিয়ে ঘেরা জায়গায় এই পানি জমে দেখে তার এই নাম। প্লুরা অতি সূক্ষ্ণ একটি পর্দা যা ফুসফুস ও বুকের ভিতরের দিকে আবরণ তৈরি করে। এই আবরণ ঘেরা জায়গাটির নাম প্লুরাল স্পেস (Pleural Space)।
আমরা জানি, ফুসফুস হচ্ছে বেলুনের মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ু থলির সমষ্টি। এই পানি ফুসফুসকে চাপ দিয়ে ছোট করে ফেলে। ফুসফুসের আয়তন কমে যায়, তার কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। আমাদের শ্বাস কষ্ট হয়, বিশেষ করে যখন আমরা কোন কাজ করি। এ ছাড়া কাশি, জ্বর ও বুকে ব্যথা হতে পারে।
বুকের ভিতরে পানি নানা কারণে জমে। আমাদের দেশে মুখ্য কারণ হচ্ছে যক্ষ্মা রোগ। এ ছাড়া আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে নিউমোনিয়া ও ক্যান্সার। এ ছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে হৃদযন্ত্র, যকৃত বা লিভার এবং কিডনির রোগ।

প্লুরাল ইফিউসানের চিকিৎসার প্রথম ধাপটি হচ্ছে কি কারণে পানি জমলো তা খুঁজে বের করা। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাম এই কাজে আমাদের সাহায্য করে। রোগ নির্ণয়ের জন্য বুকের ভিতর থেকে পানি বের করে পরীক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যে কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসকই এই কাজটি করতে পারেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসাবে এই কাজটি করেন পালমোনলজিস্ট ও থোরাসিক সার্জনরা।
অনেক সময় পানি জমে বুক ভর্তি হয়ে যায়। তখন সেই পাশের ফুসফুস একেবারেই চুপসে যায়, ওই ফুসফুস কোন কাজই করতে পারে না। একই সাথে তা হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির উপর চাপ দেয়।

আরও পড়ুন: বাতাস যখন ভয়ঙ্কর
দেহে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। একই সাথে ফুসফুস ও হৃৎযন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে তীব্র শ্বাস কষ্ট হয়, জীবন সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করে পানি অপসারণ করতে হয়। এই অপারেশনের নাম টিউব থোরাকোস্টমি (Tube Thoracostomy)। বক্ষব্যাধি সার্জনরা এই অপারেশনটি করেন।
রোগীর উপসর্গ আর পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করেন, চিকিৎসা দেন।
