দূর প্রবাসে থেকে শুনেছিলেন সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর। ইচ্ছা ছিলো প্রকল্পের কাজ শেষ করে দেশে ফিরবেন, প্রথমবারের মতো কোলে নেবেন নিজের প্রিয় সন্তানকে। কিন্তু সেই আকুল স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাশিয়ার এক গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দী হয়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আলাল হোসেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামে আলালের মরদেহ পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান প্রতিবেশী ও দূরদূরান্তের মানুষ।
নিহত আলাল হোসেন হোগলবাড়িয়া গ্রামের খেড়ু মণ্ডলের ছেলে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় ১৩ মাস আগে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে চীনের ‘সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’র অধীন একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর থেকে আলাল নিখোঁজ ছিলেন। চার দিন পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আলালের শাশুড়ি সুফিয়া খাতুন জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আলালের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। প্রবাসী হওয়ায় কেবল মুঠোফোনেই সন্তানের খবর পেয়েছিলেন তিনি। তার পুরো মনোযোগ ছিল কাজ শেষ করে দেশে ফিরে প্রথমবার সন্তানকে বুকে জড়ানো। কিন্তু সেই ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেলো।
আলালের মা ফাতিমা খাতুন সন্তানের কফিনের পাশে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, বাবা খেড়ু মণ্ডল ভেঙে পড়েছেন শোকে। প্রতিবেশী আরাফাত হোসেন বলেন, পরিবারকে একটুকরো সুখ দিতে ছেলেটা বিদেশে গিয়েছিলো, কিন্তু ফিরলো লাশ হয়ে। এখন পুরো গ্রামজুড়ে শুধু শোকের মাতম।
