তোমরাই বাংলাদেশ!
দাঁড়িয়ে অভিবাদন কিংবা টুপি খোলা অভিবাদন নয়, ছাদ খোলা অভিবাদনের ধারণাও বাংলার মেয়েরাই হাজির করলো!
খেলা মুক্তিযুদ্ধ নয়, তুলনীয়ও নয়। তবু বাংলাদেশের মতো দেশে মেয়েদের খেলতে আসা ব্যক্তির মুক্তি, নারী মুক্তি, সমাজ মুক্তির যুদ্ধ।
কারণ খেলার মতো পেশায় আসতে গেলে মেয়েদের পুরুষতান্ত্রিকতা-ধর্মতান্ত্রিকতার যে সমাজগত ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিতে হয়, তা ছেলেদের নিতে হয় না।
বরং ছেলেরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে আর মেয়েদের বৈষম্য ও বাধার শিকার হতে হয়। এই বৈষম্য সমাজে যেমন, পেশায়ও তেমন।

ওরা ১১ জন! চ্যাম্পিয়ন এই নারীরা আগল ভাঙ্গার গল্প হাজির করেছে।
ব্যক্তিগত বেদনা, দলগত লড়াইকে বাংলাদেশের উৎসব করে তুলেছে। এনে দিয়েছে মর্যাদা।
আমরা এটা ভাবিনি, মনোযোগও তেমন রাখিনি, বরং নজরে রেখেছে গণমাধ্যম, তাই আজ মানবিক সব গল্পের উদযাপন।
আমাদের ভাবনার আগল ভাঙ্গার লড়াইটা তাদের এই জয় দিয়ে শুরু কেবল। যেতে হবে আরো বহু দূর।
বিশেষ করে ভাঙতে হবে সমাজের মন, বদলাতে হবে মগজ। সে খেলায়-বিজ্ঞানে-সিনেমায়-শিক্ষায়-
শিল্প-সংস্কৃতি, রাজনীতি কিম্বা ঘরে বাইরে অন্য সব ক্ষেত্রে।
এ শুধু খেলায় জয় নয়, বরং এটা চিন্তা-সংস্কৃতি বদলের ডাক।
এই ডাক শুনলেই খুলবে মুক্তির আরো আরো পথ। যেতে পারবো বহুদূর।
রাজনীতি-দৃষ্টি বদলানোর সেই গভীর ডাক, আমরা শুনতে কি পাই মাননীয়গণ?

আবারো তোমাদের ছাদ খোলা অভিবাদন, চ্যাম্পিয়ন নারীরা!
নূর সাফা জুলহাজ; প্রধান পরিকল্পনা সম্পাদক, একাত্তর; ট্রাস্টি, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার
একাত্তর/জো
