খুচরা বাজারের চেয়ে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়তি দামে প্যাকেটজাত চাল বিক্রির জন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেছে ভোক্তা অধিকার।
অতি মুনাফা বন্ধ না হলে, খাদ্য অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে প্যাকেটজাত চালের দাম বেঁধে দেয়ার কথাও জানিয়েছে সরকারের এই সংস্থাটি।
প্যাকেটজাত চালে বাড়তি দামের কারণ জানতে গেলো মঙ্গলবার রাজধানীর সুপারশপগুলোর প্রতিনিধিদের তলব করেছিলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর।
সেই দিনের বৈঠকে ভোক্তা অধিদপ্তর জানায়, দেশের সুপার শপগুলোতে অতি মুনাফা ও দাম বেশি রাখার কারণে ক্রেতারা প্রতি পদক্ষেপে প্রতারিত হচ্ছেন।
বৈঠকে চাল, চিনি, লবণ, ডিম, ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্যে অতিমুনাফার তথ্য তুলে ধরেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
তারা জানান, সুপার শপগুলোতে ডিমে ১৮ থেকে ২২ শতাংশ, চালে ১৩ থেকে ২৯ শতাংশ, লবণে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করতে দেখা গেছে।
সেদিনের বৈঠকে তারা বলেছিলেন, প্যাকেটজাত চালের দামের ক্ষেত্রে সুপারশপগুলোর কোন ভূমিকা নেই। বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বেঁধে দেয়া দামেই তারা চাল বিক্রি করে।
গেলো সপ্তাহর আলোচনার সূত্র ধরে, মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরে বৈঠকে ডাকা হয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের।
এ সময় তারা দাবি করেন, প্যাকেটজাত চাল থেকে শুরু ডিম, আটা-ময়দার দাম বাড়ার জন্য দায়ী অস্থির বাজার। ধানের দাম বাড়লে চালের দাম বাড়বে। আছে প্যাকেটজাত করার ব্যয়।
সেই সাথে কারখানা খরচ, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়িদের লভ্যাংশ যোগ করে খোলা বাজারের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামকে যৌক্তিক বলেই দাবি করেন তারা।
উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নিত্যপণ্যের দাম উৎপাদকও নির্ধারণ করে দেয় না, আর সুপারশপও নির্ধারণ করে দেয় না। এটি মূলত ট্র্যারিফ কমিশন নির্ধারণ করে দেয়।
ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব যুক্তি উড়িয়ে দিতে গেলে, দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বাত লড়াই। এ সময় কোনো পক্ষকে দায় দিতে পারেনি ভোক্তা অধিদপ্তর।
এ সময় সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, এ কঠিন সময়ে আপনারা অবশ্যই লাভ করবেন। আপনাদের স্কয়ার ফিট ভাড়া বেশি। আপনাদের অনেক কিছুই করতে হয়। আশা করি, এ কঠিন সময়ে আপনারা যৌক্তিক মুনাফা করবেন।
বাজারে যেন কোনো পক্ষ অযৌক্তিকভাবে ভোক্তার কাঁধে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপাতে না পারে, তা নিশ্চিতে বাজার অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক।
একাত্তর/এআর
