প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধধর্মের একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। নানা রকম ধর্মীয় ও সামাজিক আচারে দিনটি উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী মানুষরা।
প্রবারণা পূর্ণিমার সব ধরনের আচার সাধারণের বোধগম্য না হলেও রাতের আকাশে একের পর এক দৃষ্টিনন্দন উজ্জ্বল ফানুস সবার নজর কাড়ে। হালে এই ফানুস উৎসবে যোগ দেয় সবাই।
সন্ধ্যা নামা পর কাগজের তৈরি ফানুসের নিচে যখন আগুন জ্বালিয়ে আকাশের দিকে উড়ে যেতে থাকে একের পর এক ফানুস তখন তৈরি হয় রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি।
কিন্তু কেন প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস উড়ানো হয়- এমন প্রশ্নের পেছনে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা লগ্নের ইতিহাস। ফানুস উড়িয়ে আসলে শ্রদ্ধা জানানো হয় গৌতম বুদ্ধকে।
বলা হয়ে থাকে, রাজকুমার সিদ্ধার্থ (পরবর্তীতে গৌতম বুদ্ধ) দুঃখমুক্তি লাভের দৃঢ় সংকল্পে রাজ্য, রাজত্ব, ভোগবিলাস, ধনকুম্ভ সব কিছু ত্যাগ করেছিলেন শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে।
যখন তিনি আনোমা নদীর তীরে পৌঁছালেন তখন সেখানে তিনি রাজ পোশাক সারথি ছান্দককে বুঝিয়ে দিয়ে সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করলেন।
তিনি ভাবলেন- আমি এখন সন্ন্যাসী, রাজকীয় বাহারি চুলও আর প্রয়োজন নেই। তিনি তরবারি দিয়ে চুলের গোছা কেটে নিলেন।
কথিত আছে যে, এই চুল তিনি কেটে আকাশে উড়িয়ে দেন। উড়ে যাওয়া সেই চুল আর মাটি স্পর্শ করেনি। আরও বিশ্বাস করা হয়ে থাকে এই চুল স্বর্গে চলে যায়।
আর তা স্বর্গে চুলামনি চৈতে সংরক্ষিত আছে। সেই পবিত্র চুল স্বর্গ মর্ত সবখানে পূজনীয়। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে প্রবারণা পূর্ণিমা পর্যন্ত এই চুল প্রদীপ জেলে স্বর্গে সম্মান জানানো হয়।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত
বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা প্রবারণা পূর্ণিমা তিথিতে সেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে আকাশ প্রদীপ তথা ফানুস বাতি নিবেদন করেন। এ কারণে বৌদ্ধ ধর্মে ফানুস একটি পবিত্র পর্ব।
আষাঢ়ী পূর্ণিমায় ফানুস উড়ানোর কথা থাকলেও বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় ফানুস উড়ানোর জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকে না। তাই উড়ানো হয় আশ্বিনী পূর্ণিমার দিনে।
একাত্তর/এসজে
