ছিনতাই বিরোধী বিশেষ অভিযানে এই চক্রের মূলহোতা শরীফসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, চক্রটি উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গীর রাস্তায় যানজটে পড়া যানবাহন থেকে মানুষের মোবাইল ছিনিয়ে নিতো। একদিনেই ৫০টির বেশি মোবাইল ফোন জমা হতো শরীফের কাছে।
ছিনতাই করা সব মোবাইল জমা দিতে হতো শরীফের কাছে। এ সময় যারা ফোন জমা দিতো তাদেরকে অল্প কিছু টাকা ধরিয়ে দেয়া হতো। এই কাজে শরীফকে সহায়তা দিতো চক্রটির অপর দুই সদস্য আব্দুল্লাহ বাবু ও শ্যামল। পরে, বিশেষ একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইলের আইএমইআই পাল্টে সেগুলো তারা অর্ধেক দামে বিক্রি করে দিতো।
বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন–শরীফ হোসেন (২২), আব্দুল্লাহ বাবু (২৩), শ্যামল হোসেন ওরফে রাব্বি (২৩), নাছির রাজ (৩০) ও সাজেদুল আলম ওরফে শাওন (২১)। পরের দিন শুক্রবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান, র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফট্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
রাজধানীর উত্তররা র্যাব-১ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে জব্দ করা মোবাইল ফোনের একটিতে ক্রমাগত কল আসছিলো। হয়তো নিজের ছিনতাই হওয়া ফোন নম্বরটি খোলা পেয়ে কোন মালিকের কল করছিলেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কলটি ধরে মালিকের সাথে কোন যোগাযোগের চেষ্টা করেনি র্যাব।
উদ্ধার করা মোবাইলের আইএমইআই নম্বরের কোন উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডারও নেই কোন বাহিনীর কাছে। তাই চুরি যাওয়া ফোনটি শনাক্তের কোন উপায় থাকেনা মালিকদের। ডাটাবেস না থাকার এই সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে র্যাব জানিয়েছে, ফোনের মালিকদের তারা খোঁজার চেষ্টা করবেন।
আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই চক্রের তৎপরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা থেকে অন্যান্য জেলা অভিমুখে যাতায়াতকারীদের এক বিশাল অংশ আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে ভ্রমণ করার সুযোগে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র নিরীহ পথচারীদের সর্বস্ব ছিনতাই করছে।
বিষয়টি র্যাবের নজরে এলে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং ওইসব এলাকায় ছিনতাই এর সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে সনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি মোটর সাইকেলসহ অর্ধ শতাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার শরীফ হোসেন এ চক্রের অন্যতম মূলহোতা ও মাষ্টার মাইন্ড। সে উত্তরা আজমপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে টঙ্গি স্টেশন রোড পর্যন্ত সড়কের ছিনতাইকারী চক্রের দলনেতা। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছিচকে চোর ও ছিনতাইকারী চক্র চলন্ত গাড়ি থেকে থাবা দিয়ে কিংবা অন্ধকারে নিরীহ পথচারীদের জিম্মি করে যেসব মোবাইল ফোন ছিনতাই করতো, সে সেই মোবাইলগুলো তার কাছে জমা করত।
সে স্বল্পমূল্যে সেই সব মোবাইল কিনে অপর দুই আসামী আব্দুল্লাহ ও শ্যামলের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করত। গত ৫ বছর ধরে এ কাজের সাথে জড়িত সে। একদিনে শরীফ সর্বোচ্চ ৫০ পর্যন্ত মোবাইল ফোন সংগ্রহ করার রেকর্ড করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, আসামি আব্দুল্লাহ ও শ্যামল ছিনতাই করা মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল বিক্রির কাজে জড়িত। তারা শরীফ এবং এর আহে গ্রেপ্তার আরেকটি ছিনতাই চক্রের অন্যতম হোতা জয় এর কাছ থেকে চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করে বিক্রির কাজ করত।
তারা বিভিন্ন দোকান, অনলাইন প্লাটফর্ম ও বিভিন্ন জনের কাছে খুচরা হিসেবে ও এসব মোবাইল বিক্রি করত। তারা ছিনতাই করা মোবাইল বাজারমূল্যের চাইতে প্রায় অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতো।
তিনি আরও বলেন, নাছির ও শাওন মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার। টঙ্গি বাজারে নাছিরের একটি মোবাইল মেরামতের দোকান রয়েছে। সে উক্ত দোকানে বৈধ ব্যবসার আড়ালে চোরাই মোবাইল এর লক খোলা ও পরিবর্তনের কাজ করে থাকে। সে তিন বছর ধরে নিজস্ব দোকানে ব্যবসা করে আসছে। নিজের দোকানে ব্যবসা শুরু করার আগে নাছির অন্য একটি দোকানের কর্মচারী ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
আরও পড়ুন: বড় ভাইদের প্রভাব বলয়ে আবারো সক্রিয় কিশোর গ্যাং
গ্রেপ্তার শাওন একটি মোবাইল মেরামত দোকানের কর্মচারী। সে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে ছিনতাই করা মোবাইলের লক খোলা এবং ও পরিবর্তনের কাজ করত। সে গত ৩ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লেফট্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানায়, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার ছিনতাইকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা শরীফ। তার সহযোগী ৪ জনসহ চক্রের সব সদস্য ওই এলাকায় তার নির্দেশে ছিনতাইয়ের মালামাল বিক্রির কাজ করে থাকে। তারা সবাই বৈধ পেশার আড়ালে ছিনতাইকারী চক্রের মদতদাতা ও আশ্রয়দাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
একাত্তর/এসি
