দীর্ঘদিনের আবাসস্থল উচ্ছেদের ঘোষণায় দিশেহারা রাজধানীর ধলপুরের তেলেগু কলোনির সুইপাররা। রোববার সকাল থেকে উচ্ছেদ চালোনার কথা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের।
পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে, সুইপারদের অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করেই উচ্ছেদ করা হবে।
প্রায় ৩২ বছরের আবাসস্থল ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ পাবার পরই রাজধানীর ধলপুরের তেলেগু কলোনীর সুইপারদের মধ্যে শুরু হয় আহাজারি।
১৮৫১ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের এ অঞ্চলে এনেছিল মেথর হিসেবে কাজ করানোর জন্য।
১৯৯০ সালে ধলপুরে তেলেগু কলোনি গড়ে তুলে তাদের দেয় হয় স্থায়ী আবাসস্থল। কিন্তু গেল এক মাস আগে সিটি করপোরেশন থেকে মৌখিক ঘোষণা আসে, কলোনি উচ্ছেদের।

তেলেগু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলেন, তেলেগুভাষী মেথর সম্প্রদায়ের একটি অংশ দীর্ঘকাল ধরে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুরে বসবাস করে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার তাঁদের মাতব্বরদের ডিএসসিসিতে ডেকে নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়। আগের দিন বুধবার ডেকে পাঠায় পুলিশও।
এ সময় পুলিশ সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে বলে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না বলে জানিয়েও দেয়।
এসব ঘটনার পরই দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ বাসিন্দা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে অনেক বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে।
দশ ফুটের ঘরে থাকে সাত থেকে আটজনের এক একটি পরিবার। ঘর রয়েছে শতাধিক। এছাড়া মেথর কলোনিতে একটি প্রাচীন মন্দির, দুটি গির্জা ও একটি স্কুল রয়েছে।
এগারো থেকে বারোশ মানুষ কোথায় উঠবেন, এনিয়ে ধর্ণা দিলেও রোববার থেকে উচ্ছেদে অনড় সিটি করপোরেশন। সুইপাররা বলছেন, নগর পরিচ্ছন্ন রেখেও নিজেদেরই ঠাই মিলছে না এখন।
উচ্ছেদের পর স্থায়ী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য তৈরি হবে ভবন আর তেলেগু সুইপারদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা।
উদ্বিগ্ন এসব মানুষ বলছেন, স্থায়ী বাসস্থান না করে উচ্ছেদ করা হলে, সবাইকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।
একাত্তর/আরবিএস
