বাংলাদেশে ই-সিগারেটের বাজার ও ব্যবহার ঝড়ের গতিতে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, তামাক কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন অপপ্রচার ও কৌশলের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর নতুন এই তামাক পণ্যের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। ফলে টিন, নিকেল, ক্যাডিয়াম, লেড, মার্কারিসহ বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান সম্বলিত ই-সিগারেট বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দেশে ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
তামাকবিরোধী কর্মী, তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন অবস্থায় যথাযথ আইনের অনুপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের অভাবে ই-সিগারেট দেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য সর্বনাশা হয়ে উঠছে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ই-সিগারেটের আসক্তি ও স্বাস্থ্যক্ষতি: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উপায়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্ক-আইপিএন এবং ইনিশিয়েটিভ ফর পাবলিক হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইপিএইচআরসি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজ করে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন টিসিআরসির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফারহানা জামান লিজা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ই-সিগারেট ব্যাপক আকারে বিস্তৃত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর ই-সিগারেটের লাগাম টেনে ধরার জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। এছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার দাবি জানান এই তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক।
আলোচনায় অন্য বক্তারা আইন সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি, ব্যবহার, বিক্রয় ও বিপণন নিষিদ্ধের দাবি জানান।
টিসিআরসির সভাপতি ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপির সভাপতিত্বে এবং টিসিআরসির সদস্য সচিব ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগি অধ্যাপক মোঃ বজলুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ট্যোবাকো পলিসি নেটওয়ার্কের আহবায়ক ড. রোমানা হক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইসেন্সের পাবলিক হেলথ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসাইন, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি এবং আইপিএইচআরসির নির্বাহী পরিচালক সুশান্ত সিনহা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ও আইপিএনের নির্বাহী পরিচালক এহসানুল হক জসীম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইসেন্সের এর শিক্ষক পলাশ চন্দ্র ভৌমিক, আইপিএনের পরিচালক কেফায়েতুল্লাহ চৌধুরী শাকিল, নাটাবের খলিল উল্লাহ, সিএলপিএ ট্রাস্টের কামরুন্নিসা মুন্না প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি বলেন, বাংলাদেশের ১৫৩ জন এমপি ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন।
ই-সিগারেটের ভয়াবহতা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, আইন প্রণনয়ন বা সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে নির্বাহী আদেশে এখনই ই-সিগারেটে নিষিদ্ধ করতে হবে।
একাত্তর/এসি
