রাজধানীর একটি হোটেল থেকে তিনি কেজি কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় মামলায় এক বিদেশির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেক বিদেশির ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ওই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ঘুষ দিয়ে অন অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়ায় দেশে কোকেন পাচার বাড়ছে।
বুধবার দুপুরে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ব্যক্তির নাম জাগাসেতা আলভারাডো জুয়ানা। তিনি পেরুর নাগরিক। ১০ বছর সাজা পাওয়া ব্যক্তির নাম মোস্তফা আশরাফ। তিনি পাকিস্তানের নাগিরক। বর্তমানে পলাতক আছেন।
যারা খালাস পেলেন তারা হলেন-মোস্তফা, শামসুল হক, হালিমা খানম সাদিয়া ও সাবরিনা নাসরিন তানিয়া।
রায় ঘোষণার আগে পেরুর নাগরিক জাগাসেতা আলভারাডো জুয়ানারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার জানান, পাকিস্তানী নাগরিক আশরাফ নাসিম পলাতক থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তিনি জানান, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রাফায়েল জানিয়েছিল, টাকা দিয়ে অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সে ইউরোপে এই কোকেন পাচার করতে চেয়েছিল। আর আসামি পক্ষের আইনজীবী আজিম উদ্দিন উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছে, এ পাচারের কাজে যুক্ত ছিল কিছু বায়িং হাউজও।
আর আসামি পক্ষের আইনজীবী আজিম উদ্দিন উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১১ জুন রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওয়েস্টার্ন হোটেল লাভিঞ্চি হোটেলের সপ্তম তলায় উপস্থিত হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ওই হোটেলের ৭০৭ নং রুমের ভেতরে প্রবেশ করে আসামিদের তল্লাশি করেন। এসময় পেরুর নাগরিক জাগাসেতা আলভারাডো জুয়ানার দখলে থাকা একটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে তিন কেজি কোকেন জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেন বাদী মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ওবায়দুল করীম ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৫ সালের ১৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালীন সময়ে ২৫ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জন সাক্ষ্য দেন।
