দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা না হলেও ভোটারদের আস্থা অর্জন হয়েছে, এমন মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায়, সামনের দিনে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহবান জানান তারা।
আগামীতে দেশে রাজনীতির সামনের পথ কী? সেই পথের সন্ধানেই আলোচনার আয়োজন ছিলো শনিবারের নিয়মিত এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল বৈঠকে। বক্তারা বলেন, সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধীরা অংশ না নেয়ায় সহিংসতা হয়নি। তবে ভোট নিয়ে জনআস্থা ফিরেছে কী-না, তা বলার সময় এখনও হয়নি।
বৈঠকে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, কোন ধরনের সহিংসতা না ঘটিয়ে একটা পরিবেশ তৈরি করি যাতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসেন। এবার সহিংসতা করবো না লিফলেট দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। ভোটারদের মধ্যে এবার ভোট দেয়ার উৎসাহ দেখিনি। যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে এর থেকে কীভাবে এর উত্তরণ করতে হবে তা রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভূমিকা রাখতে হবে।
সাবেক আইজিপি ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, নির্বাচন প্রতিহত করার পরও নির্বাচন অনেক ভালো হয়েছে। সংসদকে বিরোধীদলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্ররা এবার ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। বিরোধীদের আন্দোলন সফল হয়নি, তাদের সাথে জনসম্পৃক্ততা নেই। সে সাথে ক্ষমতাসীনদেরও সামনের দিনে কতটা জনগণের জন্য কাজ করবেন সেটাও দেখার বিষয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রশীদ বলেন, বিএনপি বিদেশি শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করলো তাতে এটা আবারও পরিষ্কার হলো যে, এখনো মিলিটারি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ আছে। শুধু বিরোধী দলগুলোই নয়, নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করতে দেখা গেছে। যা আবারও প্রমাণ করে যে দেশের রাজনীতি বিদেশের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের রাজনীতি বিদেশ নির্ভর হয়ে গেছে। এই নির্বাচনের সময় বিরোধীরাই নয় ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই বিদেশের উপর নির্ভর করেন। পরিবার রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে না পারলে বর্তমানের রাজনীতির পরিবর্তন হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, তত্ত্ববধায়ক সরকার থাকলেও সব দল নির্বাচনে আসতো কিনা সেটাও বলা যায় না। রাজনীতিবিদরা যদি জনগণের জন্য কাজ করেন, তবে পরিবার বা রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য থাকাটা আগামীতে খুব একটা শক্ত অবস্থানে যাবার সুযোগ কমে আসবে।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা কতটা রাজনীতিতে ভূমিকা রাখলো সেটা জনগণের কাছে প্রধান বিষয়।গণতান্ত্রিক ধারাতে বাংলাদেশের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে এটা প্রমাণিত হয়েছে। কম বা বেশি যাই হোক না কেনো জনগণ অংশ নিয়েছে।
গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্য বক্তারা বলেন, পাকিস্তানের কৌশল বিএনপির খুব উপকার হতো বলে মনে হয় না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও আমাদের ব্যবস্থাপনাটা ভালো না হওয়ার কারণে আস্থাহীনতা প্রকট। বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার কৌশল পুরোপুরি কাজ করেনি।
তারা আরও বলেন, সব দলের এক সাথে সংলাপে বসার সম্ভাবনা এখনো আছে। সব দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রশাসন কারো দলীয় না, সব প্রতিষ্ঠান যদি নিরপেক্ষ থাকে তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব। গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজোয়ানুল হক রাজা।
পরাজয়ের ভয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসেনি: শেখ হাসিনা
বস্ত্রের বৈশ্বিক শিল্প পাওয়ার হাউসে পরিণত বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশে ‘অলৌকিক’ অর্থনৈতিক রূপান্তর