কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর ইস্যুতে জেলার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের একটি বক্তব্যকে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষে’ই বলে মন্তব্য করেছেন ১১ বিশিষ্ট নাগরিক।
রোববার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এ মন্তব্য করেছেন বিবৃতিদাতারা।
তারা বলেছেন, ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া সেই বক্তব্য আরও অনেকের মতো আমাদেরও শোনার সুযোগ হয়েছে। আমরা মনে করি, এই পুলিশ কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলেছেন। ভাস্কর্য ইস্যুতে দেয়া তার বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও অস্ত্রহাতে লড়াই করে পাওয়া বাংলাদেশের মৌল চাওয়াগুলোকে আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
একইভাবে এসপির বক্তব্যের বিরুদ্ধে দেয়া হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য বিবৃতি তাদের একাত্তরের চেতনা বিরোধী অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সবারই জানা আছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ পুলিশ। রাজারবাগে ইতিহাস সৃষ্টিকরা সেই বিদ্রোহী চেতনাই কুষ্টিয়ার এসপির বক্তব্যে লক্ষ্য করেছি আমরা। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষে সচেতন এবং সুদৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
এসপির বক্তব্যের বিরোধীতাকারীদের একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি মন্তব্য করে তারা বলেন, এরা বর্বর পাকিস্তানীদের প্রজন্ম। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয়ে সামনে আসে। কখনেও জামায়াত-শিবির, কখনও হেফাজত। এরা আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এই কারণে এরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার দুঃসাহস দেখিয়েছে। এরপর আর এদের কোন ছাড় দেয়া যায় না। এ কারণেই এসপি এই উগ্রবাদীদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।
উগ্রবাদীরা সতর্ক না হয়ে উল্টো এসপির বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে দাবি করে বিবৃতিদাতারা এর বিষোধগার করে অভিযোগ করেছেন, এ নিয়ে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, আর কিছু নয়, ভাস্কর্য ভাঙচুর ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ইস্যুটি থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরানোর কৌশলী চেষ্টা মাত্র। এ অবস্থায় হুমিকদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা।
নাসির উদ্দীন ইউসুফের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতিদাতারা হলেন- সারোয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, আবদুস সেলিম, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, শাহরিয়ার কবীর, মুনতাসীর মামুন, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুছ, হাসান আরিফ ও আহকামউল্লাহ।
গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতের কোনো এক সময় কুমারখালী উপজেলার কয়া মহাবিদ্যালয়ে স্থাপিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী এ বিপ্লবীর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়।
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী বাঙালি নেতা। তিনি বাঘা যতীন নামেই সুপরিচিত। ভারতে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন।
এর আগে ওই বছরের চার ডিসেম্বর দিবাগত রাত দুইটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ভাস্কর্যের মুখ ও হাতের অংশ ভেঙে ফেলে তারা। পরে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ছবি দেখে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। ঘটনার পরে মাদ্রাসার ওই দুই ছাত্রকে সহযোগিতা করার জন্য মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
