নারীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডার সংবেদনশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবে নতুন একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক ও প্ল্যাটফর্ম। দেশের বিদ্যমান নীতি, আইন ও কাঠামোর ভিত্তিতে ‘জেন্ডার লেন্স’ ব্যবহার করে ঢাকা, গাজীপুর, সাতক্ষীরা ও খুলনায় নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশে সমন্বিত প্রকল্পের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য জানান।
সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস), কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি) এবং ‘পূর্ণিমা’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফেম উইনডো-৩ এর আর্থিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ঢাকা উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাজ ফারহানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আইভি আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ম্যানেজার চৌধুরী মো. মোহাইমেন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব বক্তব্য দেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফরাসি দাতা সংস্থা এএফডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সিনথিয়া মেলা।

স্বাগত বক্তব্যে সিডব্লিউসিএস-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ইশরাত শামীম বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো মাইক্রো ক্রেডিটের মাধ্যমে নারীদের ঋণ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা স্বামীরা খরচ করেন, যা নারীর ওপর ঋণের বোঝা বাড়ায়। তাই জেন্ডার লেন্সের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থসামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘পরিবর্তনের পক্ষে সচেতনতা - সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোকেয়া সুলতানা ও নাসরিন রাজ্জাক। রোকেয়া সুলতানা বলেন, নারী, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি জরুরি।
সিনথিয়া মেলা নারীবাদী কূটনীতিতে ফ্রান্সের অঙ্গীকার তুলে ধরে জেন্ডার সমতা অর্জনে পুরুষদেরও সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহবান জানান। আসিফ আইয়ুব জানান, তার সংগঠন বিদেশফেরত অভিবাসী নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক শাহনাজ শারমিন বলেন, কৃষিতে ৬২ শতাংশ শ্রম নারীর হলেও ফসলের বিক্রির টাকা তাদের হাতে থাকে না।
অন্যদিকে চৌধুরী মো. মোহাইমেন জানান, ১০৯৮ হেল্পলাইনের মাধ্যমে শিশু ও তাদের পরিবারকে ২৪ ঘণ্টা সেবা ও সচেতনতা প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটি সিডও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নারী উদ্যোক্তাদের বাধা দূর করতে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সার্জিন জাহান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক নুসরাত সুলতানা।
