প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন করা হবে। তিনি
বলেন, আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরও জানান, মেয়াদী উত্তীর্ন কমিটি জেলাগুলোতে সম্মেলন করা হচ্ছে। এতে দল আরো শক্তিশালী হবে।
বুধবার, গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক তিনি এসব কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইবারও নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন করতে চায় আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন করোনার কারণে দলীয় কার্যক্রম কিছুটা হলেও স্থবির ছিলো। এখন দলকে চাঙ্গা করা হচ্ছে। যথা সময়েই হবে দলের জাতীয় সম্মেলন।
সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টের শহীদ ও প্রয়াত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বৈঠক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেট ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সব কিছু ঠিক থাকলে ২৫ জুন বহুল কাঙ্খিত আর আশার পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরিমধ্যে পদ্মার বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে নয়নাভিরাম পদ্মা সেতু।
অবকাঠামো নির্মাণ আগেই শেষ হয়েছে। এখন শুধু শেষ সময়ের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ট্রাফিক লেন ঠিক করা হচ্ছে। লাগানো হচ্ছে সড়ক বাতি।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। নিজের অর্থে সেই সেতু করেছি। ২৫ জুন উদ্বোধন করবো,ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন,ওয়ার্ল্ড ব্যাংক একটি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থ বন্ধ করে দেয়। এজন্য আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে দোষ দেবো না। ঘরের শত্রু বিভীষনই হয়।
ড. ইউনূস এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছিল। তার গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি পদটার জন্য। সে এমডি পদটি হারিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী বয়সের জন্য।
আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত এমডি থাকতে পারে। সে ৭১ বছর পর্যন্ত এমডি থেকে ছিলে। একটি ব্যাংক এভাবে বিআইনিভাবে চলতে পারে না।
এজন্য ইউনূস আমাদের সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করে। কিন্তু সেই মামলায় সে হেরে যায়।
সেজন্য সে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে এবং হিলারির মাধ্যমে অর্থাৎ আমেরিকা সরকারকে দিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করে আমাদের পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করে দিতে।
সেখানে দুর্নীতির প্রশ্ন যখন তোলা হয়েছিল, আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। এটা প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার কোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছে- তাদের সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভুয়া।
কিন্তু সেই সময় একটা প্রচণ্ড মানসিক চাপ এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন, আমাদের কিছু লোক নানা ধরনের কথা বলে।
আমি বলেছিলাম, আমরা নিজেদের অর্থে করবো। সেটা করেছি। ইনশাল্লাহ, ২৫ জুন আমরা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবো। আশা করি, সব কিছু ভালোভাবে হবে।
এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম এই কারণে যে, বাংলাদেশের সম্পর্কে কেউ বিরূপ কোনও কথা বললে আমার নিজেরই কষ্ট লাগে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থা দুঃখজনক ছিল। কারণ, ক্ষমতা তো জনগণের হাতে ছিল না। ক্ষমতা চলে গিয়েছিল সেই মিলিটারি ডিকটেটরদের হাতে।
উর্দি পরে ক্ষমতা দখল করতো। যার ফলে দেশের উন্নয়ন না হয়ে তারা তাদের উন্নয়ন করেছে। ১৯/২০টা ক্যু হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল, সেশনজট ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আমরা সেটা ভুলে যাই না।
প্রতিবার বাজেট ঘোষণার সময় সেই ইশতেহার হাতে নিয়ে কতটুকু অর্জন করতে পারলাম, কতটুকু আমাদের সামনে করতে হবে,সেগুলো বিবেচনা করে সেভাবেই বাজেট করি।
একাত্তর/এআর
