বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অনশন করছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনশন করছেন তারা। এতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যোগ দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রিজভী বলেন, এই সরকার আবারো রাতের আঁধারে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা দল এই কর্মসূচি করছে।
তিনি বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন তিনি পাশের দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছেন যা তারা সারাজীবন মনে রাখবে। আপনি দেশকে উজাড় করে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে হুমকির মধ্যে ফেলেছেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রকে কবর দেয়ার জন্য, মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করেছেন। এক ভয়ঙ্কর মাষ্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করেছেন। আমি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।
আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনারা ইইউ ও পশ্চিমা দেশের প্রতি এত ক্ষুব্ধ কেন? এত গোস্সা কেন? আসলে ওবায়দুল কাদেরদের মনের মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড় বইছে। ক্ষমতার হারানোর ভয় ঢুকছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বলছেন মার্কিন মন্ত্রী উজয়া জায়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেননি। বিএনপি বিদেশিদের কাছ থেকে ঘোড়ার ডিম পেয়েছে। তাহলে আপনারা ইইউ ও পশ্চিমা দেশের প্রতি এত ক্ষুব্ধ কেন?
বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ১৯৯৪ সালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাহলে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চান কেন?
তিনি বলেন, জনগণ অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে, ভোট চোরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা জনগণের ভোট ডাকাতি করার জন্য আবারও মাস্টারপ্ল্যান করছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে গভীর রাতে, সন্ধ্যারাতে বা দিনের বেলায় ভোট ডাকাতি করতেই সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন।
সকাল ১০টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। একে একে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বিভিন্ন নেতা। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচিতে থাকবেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা-কর্মীরা।
একাত্তর/এসি
