প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতাকে হত্যার পরে এদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। ক্ষমতা দখলকারীরা উর্দি খুলে হঠাৎ রাজনীতিবিদ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেই সংবিধান স্থগিত করে মার্শাল ল' জারি করে। তথাকথিত হ্যা-না ভোটের নির্বাচনে না বাক্স খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তারা গণতন্ত্রের নামে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে।
তিনি বলেন, অবাক লাগে আজ আন্তর্জাতিক ভাবে অনেক কথা বলে। আমার প্রশ্ন, যখন মিলিটারি ডিক্টেটররা নির্বাচনকে কলুষিত করেছে তখন কোথায় ছিলো তারা? তখন তো কিছু বলতে শুনিনি এই দেশগুলোকে। ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে ১৯৯৬ সালের ৩০ শে মার্চ পদত্যাগ করতে হয়েছে। নির্বাচনে অবৈধভাবে জেতার জন্য বিএনপি তত্তাবধায়ক সরকারের নামে জনগণের সাথে ছিনিমিনি খেলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে আওয়ামী লীগ সরকার আইন করে দিয়েছে যার অধীনে এখন দেশে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তারা সঠিক জায়গায় ভোট দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনি। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ টি সিট পায়। আওয়ামী লীগের ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি বছর বাজেট প্রণয়ন এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের মতো জ্বালাও পোড়াও করে আবার সাধারণ মানুষের রুটি রুজিতে হাত দিয়েছে বিএনপি-জামাত। তারা ২০১৪ সালে নির্বাচনে আসতে চায়নি কারণ তাদের আত্মবিশ্বাস নেই। ২০১৮ তারা এসেও সরে পরে। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার করে। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কোন প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে। সাংবাদিকদের ওপর, মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে বিএনপি-জামাত। তারা মানুষ মেরে সরকার উৎখাত করতে চায়। মানুষ মেরে সরকারে যাওয়া যায় না। তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কখনো আমরা বাধা দেইনি। যখন তারা ভদ্রভাবে কর্মসূচি পালন করছিলো তখন মানুষের কাছে বিএনপি'র গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। কিন্তু যখন তারা অগ্নি সন্ত্রাস, খুন, হামলা শুরু করলো তখন আবার তারা জনবিচ্ছিন্ন, সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিতি পেলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। সেটি নষ্ট করার জন্য রাজনৈতিকভাবে না পেরে এখন অতনৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করে যাচ্ছে। হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আইন হাতে না তুলে নাশকতাকারিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নির্বাচনে আসার আহবান জানাচ্ছি। নির্বাচনে বানচালের চেষ্টা করবেন না, ভালো হবে না। যারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন তারা নির্বাচনে আসুন। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমি সবার কাছে নৌকা মারকায় ভোট চাই। তারপরেও জনগণ যাকে খুশি ভোট দেবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগ্রাম করে গেছে। আর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে। আওয়ামী লীগের একমাত্র শক্তি জনগণ।
সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের তেজগাঁও কার্যালয়ে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করছেন মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু