‘নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপি নেতাদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।’ নিজের এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এটা অবশ্যই দলের বক্তব্য নয়, এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছি। আমার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের আমরা নির্বাচনে আনতে চাই। কিন্তু আমাদের সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমার বক্তব্যের মূল কথা ছিল, আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ চেয়েছে। এই কথাটি বলতে গিয়ে আমি সেদিন কিছু কথাবার্তা বলেছি।
‘আমি সেদিন এটিও বলেছি যে, তারেক রহমানের নামে মামলা রয়েছে, তার সাজা হয়েছে। সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তার মা অসুস্থ, তারও সাজা হয়েছে। কাজেই নেতৃত্বশূন্য বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায় না, তারা চায় নির্বাচন বানচাল করতে ।’
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের বক্তব্য হলো, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনোভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব না। পৃথিবীর কোনো দেশেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জাপান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা কোথাও না। কাজেই আওয়ামী লীগের সামনে কোনো বিকল্প নেই। এই কথাটিই বলেছি। এই পদ্ধতির মধ্যে থেকে বিএনপি বলতে পারত নির্বাচনকে কীভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা চালিয়েছে, ট্রেন লাইন কেটে নাশকতা করেছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে রাজশাহীতে কীভাবে তারা পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, প্রায় চারশ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছি যে, আওয়ামী লীগের জন্য কী গন্তব্য ছিল?
‘আপনারা জানেন, তারা ট্রেন লাইনে কীভাবে নাশকতা করেছে। এই নাশকতা বন্ধ করতে হলে গ্রেপ্তার তো করতে হবেই। বিএনপি নেতাদের হুকুম ছাড়া কী কোনো কর্মী বাসে আগুন দেবে? সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন সরকারে আছে, তার দায়িত্ব হলো মানুষের জীবনের ও জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। আওয়ামী সেটিই করেছে।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা যদি নির্বাচনে আসত তাহলে স্বীকার করে নিত যে, তারা আর সন্ত্রাস করবে না। তার মানে শান্তি আসত। নির্বাচন কমিশনারই বারবার বলেছেন, প্রয়োজনে নির্বাচন পিছিয়ে দেবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বড়ো বড়ো নেতাদের কারাগারে রেখে কী নির্বাচন হবে? তাদের আমি ছেড়ে দেব বিষয়টি তো এমন নয়। জামিন দিয়ে আইনের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হতো। নির্বাচন কমিশনই এমনটা ভেবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো বিএনপি যদি রাজি হয়, তাহলে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। সেই কথাটাই আমি বলেছি, এটা আবারও বলছি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি অংশ নেয়নি বলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বিষয়টি এমন নয়। জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। একটি চ্যানেল প্রকাশিত আমার বক্তব্য দলের বক্তব্য নয়, একেবারেই আমার ব্যক্তিগত বক্তব্য। কোনভাবেই মনে করিনা আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে বিএনপি নেতাদের জেল থেকে বের করে আনা সম্ভব।
ফখরুল-খসরুকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ