আমি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও কথা বলেছি: শামীম ওসমান

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৩৪ পিএম

প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত জেলা নারায়ণগঞ্জ। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটার এই আসনে। আর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী।  

১৯৯৬ সালের পর থেকে তিনবার এই আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম শামীম ওসমান। বাবা এ কে এম শামসুজ্জোহা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের সদস্য। দাদা এম ওসমান আলী ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

চতুর্থবারের মতো আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এবারও নৌকার মাঝি শামীম ওসমান।

সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশনের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ শারমীন।

একাত্তর: তিন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির পজেটিভ পরিবর্তনের ধারক আপনার পরিবার। কিন্তু তৃতীয় প্রজন্মে তথা আপনার সময়ে এসে কোথাও কোথাও সমালোচনা আছে। এটা কেনো?

শামীম ওসমান: যে কাজ করবে না তার তো সমালোচনা নেই। আমি এটা বিশ্বাস করি পৃথিবীতে কেউ পারফেক্ট না। না আপনি, না আমি। আরেকটা বিষয় হলো- আমাদের পরিবারটা স্বাধীনতার পক্ষের পরিবার। আমার দাদা নবাব হাবিবুল্লাহর জামানত বাজেয়াপ্ত করে ঢাকা বিভাগ থেকে এমএলএ হয়ে ছিলেন। আমার দাদা ও বাবা দুজনেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। আমরা তিন ভাই এমপি হয়েছি। যারা হতে পারেন নাই তাদের তো একটা ক্ষোভ থাকেই।

একাত্তর: নারায়ণগঞ্জকে আপনি সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান কেনো?

শামীম ওসমান:  দুটি ঘটনা এর পেছনের কারণ। প্রথমত, ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া ও গোলাম আজমের গাড়িবহর কয়েক ঘণ্টার জন্য আটকে দিয়েছিলাম। ওই বহরে বিস্ফোরণের ৬৫ জন নিরীহ মানুষ হত্যার নীলনকশা ছিল। যার দোহাই দিয়ে রাতেই একটা সামরিক অভ্যূত্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধপল্লী। আমরা সেটারও পুনর্বাসন করেছিলাম। এই দুটো শক্তি মিলে আমাকে এই উপাধি দিল।

একাত্তর: বিরোধীদের তীর্যক মন্তব্য ও নানা রকমের হামলা কী আপনাকে রাজনীতিতে কঠোর হতে উদ্বুদ্ধ করেছে?

শামীম ওসমান: না বরং উল্টো হয়েছে। তাহলে তো প্রতিশোধ নিতাম। আমরা তো ক্ষমতায় আজ ১৫ বছর। অথচ আমরা কোথাও তো কাউকে ফুলের টোকাও দেইনি। আমি ভেবেছি, ওরা যা করেছে, তার কারণে মানুষ তাদের ঘৃণা করে।

একাত্তর: প্রশাসনকে আপনি অনেক সময় হুমকি দেন। এটা কি চাপে রাখার জন্য, নাকি আপনি মনে করেন, তারাও আইনের ঊর্ধ্বে নয়?

শামীম ওসমানঃ আমি তো বলেছি, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রশাসন কেনো, আমি তো সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও কথা বলেছি। আমার রাজনীতির পরে যদি একটা পেশা ভালো লাগে, সেটা সাংবাদিকতা। এমনও হতে পারে, রাজনীতি ছাড়লে আমি সাংবাদিকতা করবো। আমার ইচ্ছা আছে। এই দুটো জিনিসের জন্য একটি জিনিস লাগে। সেটা সত্য। সত্য সুন্দর, সুন্দরই সত্য। আপনি যদি রাজনীতি করেন, তাহলে সাহস থাকলে সত্য কথা বলেন। আর সাহস না থাকলে বলবেন না। একইভাবে সাংবাদিকতায়ও। আপনি যদি লিখেন, সাহস নিয়ে সত্য লিখেন। আর যদি তা না পারেন, লিখবেন না। কিন্তু নিউজ তৈরি কইরেন না। আপনার কাজ সত্য তুলে ধরা। আমার কাজ সত্যটা বলা। আমি বলছি না, আমি পারফেক্ট। তবে আজ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি, পার্টি ভেতরে বা বাইরে, ঘরে বা বাইরে সত্যটা বলার। এই প্রশ্নে, আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে কেয়ার করি না।   

একাত্তর: সাংবাদিকদের সঙ্গেও তো আপনার সমস্যা হয়?

শামীম ওসমান: আমার সঙ্গে কখনো কোনো সাংবাদিকের সমস্যা হয়নি। যারা বলে আমার সমন্ধে, তারা বরং নারায়ণগঞ্জে অনেক প্রথিতযশা সাংবাদিকের নামে মামলা করেছে। আমি কিন্তু জীবনেও কোনে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করিনি।

একাত্তর: আপনার কথা, উক্তি বা মাঠের বক্তব্য কখনো কখনো আপনাকে সমালোচনায় ফেলে দেয়, রাজনীতির মাঠের ভাষাই কি আলাদা হয় বলে?

শামীম ওসমান: না। রাজনীতির মাঠের ভাষা আলাদা হবে কোনো? রাজনীতির মাঠে যেটা বলি, সেটাই আমি সঠিক বলি। আপনাকে মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ সালে ২১ শতাংশ লোক আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। তার অর্থ কী? একটা শক্তি ছিল, যারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। তারা তো মরে নাই বা দুনিয়া থেকে উধাও হয়ে যায় নাই। বরং ১৯৭৫ এর পর থেকে এরা বৃদ্ধি পেয়েছে সব যায়গায়। ওই শক্তি তো চুপ করে বসে থাকবে না। অনেকে বলে বিরোধী দল তো থাকবেই। কারা? বিএনপি বিরোধী দল। একটা সময় আমিও বিএনপিকে বিরোধী দল ভাবতাম। সরি, আমি এখন বিএনপিকে বিরোধী দল ভাবতে পারি না। কারণ, যেই দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে ২১ আগস্ট ঘটায়, সাবেক অর্থমন্ত্রীকে হত্যা করে, শ্রমিক নেতা আহসান উল্যাহ মাস্টারকে হত্যা করে, মেয়েদের ধর্ষণ করে। বাদ দেন সেগুলো। ২০১৩-১৪ তে এসে কী করলো? আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারল। আমরা ভাবলাম, ওরা হয়ত ঠিক হয়ে যাবে। এটা আমাদের সরকারের ব্যর্থতা। তখন যদি তাদের বিচার হতো, আজকে তারা এই সাহস দেখাতে পারত না। এখনও কিন্তু ৮-৯শ’ গাড়ি পুড়ালো।

একাত্তর: বিএনপির অভিযোগ- তাদের ওপর দমনপীড়ন হচ্ছে। তাদের নেতারা জেলখানায়। তারপরও আপনি বলছেন, আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন ছিল তাদের প্রতি?

শামীম ওসমান: আমি মনে করি, আইনের শাসন হওয়া ‍উচিত। আমি আইনের ছাত্র। আমি একটা জিনিস বুঝি, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাই আইনের মধ্যেই। আপনি একটা দেশ দেখান তো যেখানে স্বাধীনতার বিরোধিতা হয়েছিল। দেশবিরোধীরা আবার রাজনীতি করার সুযোগ পায় কেমন করে?

একাত্তর: আপনার আসনে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বড় রাজনৈতিক দল আসছে না, নির্বাচনকে আপনি কতটা অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে মনে করছেন?

শামীম ওসমান: ধরেন, এখানে বিএনপিও দাঁড়ালো। আরও অনেকে দাঁড়ালো। কিন্তু মানুষ ভোট দিতে আসল না। তাতে লাভ হলো না। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো- মানুষকে ভোটে নিয়ে আসা, উদ্বুদ্ধ করা। মানুষকে বলা যে, যদি আপনি ভোট দিতে না যান, তাহলে আপনরা কোনো অধিকার নেই চায়ের টেবিলে বসে গল্প করবেন-এদেশের আর থাকা যায় না, এদেশটা কী হয়ে যাচ্ছে? এভাবে আর চলে না। অতএব, আপনাকে ভোট দিতে আসতে হবে।

একাত্তর: আপনার আসনের ভোটাররা বলছেন, ভোট দিতে যাবেন। কিন্তু ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকতে হবে। সে পরিবেশ কী থাকবে?

শামীম ওসমান: আমি তাদের সঙ্গে শতভাগ একমত। আমি নিজেও তাই মনে করি। নির্বাচনে শতভাগ সুষ্ঠু পরিবেশ থাকা উচিত। নির্বাচন কমিশন ও আপনাদের মিডিয়ার কাছে আমার দাবি, যদি আমার এলাকায় যদি বিন্দু পরিমাণ অ-সুষ্ঠু হয়, কোথাও যদি ভোট বাধাগ্রস্ত হয়, আপনারা আপনাদের মতো কাজ করবেন এবং নির্বাচন কমিশন যাতে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। 

একাত্তর: নানা সময়ে ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এগুলো কি কখনো কখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়? 

শামীম ওসমান: আমার যে এলাকা। সাত লাখ ভোটার। অথচ আমার এক ফতুল্লা এলাকায় থাকে ৩০ লাখ লোক। অধিকাংশই বাইরের। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প এলাকা। এখানে নানা ধরনের লোক আসে। আমি এমপি হিসেবে আমার পক্ষে তো সম্ভব না সবটা নিয়ন্ত্রণ করা। তবে, এবারে আমি একটা কাজ করছি- নির্বাচনী কমিটিগুলোকে পঞ্চায়েত কমিটি হিসেবে রূপায়ন করবো। আমার এলাকায় ৪৫ ওয়ার্ড, আশপাশে ৮০টা ওয়ার্ড আছে। সব তো আমারই দেখতে হয়। একেক ওয়ার্ডে আমি অন্তত এক হাজার করে লোক নিবো। সেখানে প্রত্যাশা নামে একট সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন করবো। ভালো কিছু তরুণ তরুণীদের নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। আমরা অনেক উন্নয়ন করছি, এটা ভোগ করবে কারা? যারা ভোগ করবে, তারা মাদকে বুঁদ হয়ে যাচ্ছে। আমরা এই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। মানুষকে সচেতন করে এদের (ড্রাগ ডিলার) আটকে দিবো। অনেকে বলে, ইবলিশ শয়তানকে দেখা যায় না। আমি বলি এরাই (ড্রাগ ডিলার) হচ্ছে ইবলিশ শয়তান।

একাত্তর: আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন, বা এটি আপনার শেষ নির্বাচন?

শামীম ওসমান: নির্বাচন করতে হলে রাজনীতি করতে হবে, সেটি আমি মনে করি না। আমি মনে করি, আমার চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন লোক আসা উচিত। যে অর্থনীতি বুঝে, কূটনীতি বুঝে, বলতে পারবে কথা, বিশ্বকে যে মোকাবেলা করতে পারবে। আমাদের বাবা ও ভাই দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছি। পরের প্রজন্ম এসে তাদের কাজটা করবে। এজন্য আমি হয়ত আর নির্বাচন করবো না। নতুনদের গড়ে তুলতে হবে তো। এরপরে হবে অর্থনৈতিক লড়াই, আমি সেটার জন্য ফিট নই। 

একাত্তর: হলফনামায় আপনার সম্পদ কমেছে, ঋণ বেড়েছে। বন্ধুর কাছে আপনি ঋণী দীর্ঘদিন।

শামীম ওসমান: হ্যাঁ। এটি সত্য। এটি আমার বাবার সঙ্গে মিলে যায়। আমার বাবা যখন এমপি ছিলেন, তখন রং সুতার মার্কেট সবচেয়ে বেশি ছিল। তখন ইন্ডাস্ট্রিগুলো বাবার স্বাক্ষরে চলতো। তখন যারা আমার বাবার স্বাক্ষর পেয়েছে, তারা এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। আমরা জানতাম। ৭৪ সনের শেষ দিকে আমরা যে বাড়িতে থাকতাম, হিরা মহল বন্দক রেখে মাত্র ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রথমে মোস্তাক বললেন, তার মন্ত্রিসভায় যেতে। গেলেন না, জেলে গেলেন। পরে জিয়াউর রহমান সাহেব বললেন, হলেন না। তখনও আবার জেলে নিলো। আমাদের বাড়ি নিলামে উঠিয়ে নিলো। তখন অনেক ধনী আত্মীয় ছিল, দলের ভেতরে বাইরে অনেক ধনী মানুষ ছিল, কেউ এগিয়ে আসল না। আদমজিসহ নারায়ণগঞ্জের মিলশ্রমিকরা এক টাকা করে চাঁদা দিয়ে নিলাম থেকে ছুটিয়ে দিয়েছিল। বাবা ৭৪ সালে বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন, আমাদের জন্য এক টাকাও রেখে যাননি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মানুষ করে গেছেন। আমাদের বাবা-মার মতো আমরা হতে পারিনি। কেউ হতে পারবোও না। কিন্তু চেষ্টা করেছি, রাজনীতিকে ইবাদত হিসেবে নিতে। চেষ্টা করেছি, ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। আমার মেয়ে বিশ্বের চারটে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা থেকে প্রথম শ্রেণী পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

একাত্তর: ছেলেকে রাজনীতিতে আনতে চান?

শামীম ওসমান: এখন চাই না। আমি চাই, সে অর্থনৈতিকভাবে পরিপূর্ণ গড়ে উঠুক। যাতে তাকে রাজনীতি করে পয়সা কামাতে না হয়। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই মানুষকে সাহায্য করতে পারে। আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি, আজকের দিনটিই সম্ভবত আমার শেষ দিন। আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে মরতে চাই। এটাই আমার রাজনীতি। এটিই আমার লক্ষ্য। এটিই বাবা-মা-বড় ভাই ও মাতৃতুল্য শেখ হাসিনা আমাকে শিখিয়েছেন। 

একাত্তর: নির্বাচনে ভোটারদের নিকট আপনার প্রতিশ্রুতি কী?

শামীম ওসমান: বড় কাজ সব করে ফেলেছি। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, মেডিকেল কলেজ হচ্ছে, শেখ কামাল আইটি ইনস্টিটিউট হচ্ছে, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হচ্ছে, ২৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ ফ্লাইওভার হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে, আরেকটা রাস্তা হচ্ছে আদমজি পর্যন্ত। এরকম বড় কাজগুলো ৯০ শতাংশ শেষ। আমার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে- এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা, মানুষ যাতে রাতে দরজা খুলে ঘুমাতে পারে। একজন নারী যাতে নির্বিঘ্নে রাতে ঘুরে বেড়াতে পারে। যেটা দুবাই সিঙ্গাপুরে পারে, অ্যামেরিকা-লন্ডনেও পারে না। এমন একটা নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। মানুষ যদি সহযোগিতা করে আমি এটা করে দেখাবো ইনশাআল্লাহ।

একাত্তর: জয়ের ব্যাপারে কতখানি আশাবাদী?

শামীম ওসমান: যা কিছু ঘটবে আল্লাহর হুকুমে ঘটবে। যদি আল্লাহর হুকুম থাকে আমার ওপর, তা হলে আমি নির্বাচন পর্যন্ত বাঁচবো এবং জয়ী হবো, আমার দলও জয়ী হবে। এর বাইরে কিচ্ছু হবে না, একটা পাতাও নড়বে না। একটি জিনিস আমি বলতে চাই ভোটারদের- অনেকে পছন্দ করে-এমপি সাহেব যাবে, ভোট চাইবে। বলবে, মা-খালা আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে একটা ভোট দিয়েন। রাস্তার ওপর নাটক করে, হকারদের জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে, গরীবদের সঙ্গে ছবি তুলে। ভোটের পর কাউকে চিনে না। আমি এটা আমি পছন্দ করি না।

একাত্তর: নির্বাচন জমে উঠেছে বলে মনে হয়?

শামীম ওসমান: নির্বাচন জমে উঠেছে। আরও জমবে। আমাদের এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হবে। ইনশাআল্লাহ।

একাত্তর: স্বতন্ত্র প্রার্থী আত্মঘাতী হবে কী?

শামীম ওসমান: আমি ওভাবে বিশ্লেষণ করে দেখিনি। কারণ পুরো বাংলাদেশের তালিকাটা আমার কাছে নেই। একটা বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত- ধরেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে একটা মিছিল বের হলো। একই সময়ে আবার আওয়ামী লীগ নেতা যিনি স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছেন, তিনিও মিছিল নিয়ে বের হলেন। দুজনের একজনও জানলেন না। এই মিছিল থেকে একটা ঢিল মারলো, ওই মিছিল থেকে আরেকটা ঢিল মারলো। এভাবে লাগলো মারামারি। থার্ড পার্টি সুযোগ নিলো- বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গিবাদ, দুটো বোমা বিস্ফোরণ করে দিল। ১০জন মানুষ মারা গেলো। সেখানে বলার সুযোগ পাবে- নির্বাচনের পরিবেশ নাই। আমরা কাউকে দায়ী করতে পারবো না। পাশাপাশি আমাদের সংগঠন ব্যাপক ক্ষতিগস্ত হবে।

এরকাত্তর: রাজনীতিবিদদের হাতে এখনও রাজনীতি আছে আদৌ?

শামীম ওসমান: রাজনীতিবিদদের হাতে সব রাজনীতি এখন আর নেই। তবে যতদিন জাতির পিতার কন্যা আছে, ততদিন থাকবে। এবার আমরা আনবো। আপনি নমিনেশনের সেটাআপ দেখলেই বুঝতে পারবেন। জাতির পিতার কন্যা কিন্তু ওভাবেই নমিনেশনের সেটআপ দিয়েছেন, যাতে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকে। রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকুক রাজনীতি- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

একাত্তর: আপনাকে ধন্যবাদ

 

 

একাত্তর/কেএসএইচ
জুলাই অভ্যুত্থানে ১০ জনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। 
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর জামিন আবেদন আবারও নাকচ করেছে আদালত। 
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মাফিয়া সিস্টেমের সাথে এনসিপি খেলবে না। পুরোনো খেলার নিয়ম বদলাতে হবে। এখনও খেলার নিয়ম বদলায়নি। খেলা বন্ধ না হলে আরেকটা গণঅভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিতে হবে। 
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুইটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার শুনানি শেষে সাবেক সিটি মেয়র আইভীর জামিন নাকচ করেছে আদালত।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও কাতার। 
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনটিটি)- এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয়...
রোববার নিউ জার্সির রাতে লাল জার্সিতে দ্বিতীয় নক্ষত্র খোদাই করে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঠিক কী ঘটেছিল...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর