গেলো ১৬ বছর ধরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে ঢাকা দশ আসনে নৌকার প্রার্থী চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেছেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটের দিন ভোটারদেরকে কেন্দ্র নিয়ে আসা।
ফেরদৌস বলেন, ২০০৮ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত। ঢাকা-১০ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয় পেয়ে যারপরনাই খুশি তিনি। তিনি বলেন, ঢাকা-১০ আসন তার কাছে নতুন কিছু নয়। তার কলেজ জীবন ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেটেছে এই এলাকায়।
ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা ফেরদৌসের জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে এই এলাকার অলিতে গলিতে আড্ডা দিয়ে। তিনি বলেন, তার দু’মেয়ে এ এলাকাতেই পড়াশোনা করেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক টুকটাক রাজনীতি করলেও এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে লড়বেন এই অভিনেতা।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ খ্যাত এই অভিনেতা ফেরদৌসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, ভোটাররা তাকে ভোট দিক কিংবা নাই দিক, তারা যেনো নির্বাচনকে ঘিরে ভোট দিতে কেন্দ্রে যায় সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারেও তিনি ভোটারদেরকে আহবান জানাচ্ছেন, সাতই জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যাবার জন্যে।
নির্বাচনে জয়ী হলে ধানমন্ডি, হাজারিবাগ, নিউমার্কেট ও ঢাকা-১০ সংশ্লিষ্ট মানুষদের উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান ফেরদৌস। এ এলাকার সড়কগুলোর উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চান এই অভিনেতা। প্রচারের সময় ভোটারকে দেয়া সব কথা রাখতে চান। মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌছাতে নিরলস পরিশ্রম করছেন তিনি।
ঢাকা-১০ আসনে জল ও যানজট বড় সমস্যা উল্লেখ করে ফেরদৌস বলেন, এখানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে একটি সুন্দর টাইমিং নির্ধারণ করা হবে যাতে করে যানজট তৈরি না হয়। কিছু জায়গায় গ্যাস ও পানির সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা ধরে ধরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করে মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য নগরী করে তুলব।
তার চাওয়া, বড় পর্দায় নায়ক হিসেবে যেভাবে সবার ভালোবাসা পেয়েছেন, নেতা হিসেবেও যেন তাকে ততটাই ভালোবাসায় শিক্ত করেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ। প্রচারে যেয়ে, তিনি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। চোখের সামনে প্রিয় নায়ককে দেখে অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন ভোটাররা। মাথায় হাত রেখে তার জন্যে দোয়াও করছেন তাদের কেউ কেউ। 
নির্বাচনী প্রচারে কোনো শোডাউন করতে নারাজ চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তার কথা, এতে সাধারন মানুষদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। সৃষ্টি হবে, দীর্ঘ যানযট, মানুষের কষ্ট হবে। তাই বেশিরভাগ সময় তিনি পায়ে হেঁটে এলাকা এলাকা ঘুরে, কখনো বাসায় যেয়ে, ছোট্ট কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে ভোটারদের কাছাকাছি পৌছাতে চাচ্ছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ঢাকা-১০ আসনের ভোটার। ফেরদৌস বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, তিনি ও শেখ রেহানা আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেরদৌসকে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং এটি তার জীবনের অনেক বড় একটি পাওয়া।
ফেরদৌসের কাছে প্রশ্ন ছিলো, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি চলচ্চিত্র তথা এফডিসির উন্নয়নে কাজ করবেন কিনা, কারণ এর আগে চলচ্চিত্রের মানুষ চিত্রনায়ক ফারুক ও নায়িকা কবরী নির্বাচিত হয়েও এফডিসি তথা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে চোখে পড়ার মতো তেমন অবদান রাখতে পারেননি।
তবে ফেরদৌস তা মানতে নারাজ, তিনি বলেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে চলচ্চিত্রের মিয়া ভাই নির্বাচিত হবার পরপরই অসুস্থ হয়ে যান। এরপর চিকিৎসার জন্যে কখনো ঢাকার হাসপাতালে, আবার কখনো সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৫ মে তিনি মারা যান।
ফেরদৌস বলেন, অসুস্থতা না থাকলে, ফারুক ভাইও চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারতেন। যে চলচ্চিত্র দিয়ে তার ফেরদৌস হয়ে উঠা তাকে কখনোই ভুলতে পারবেন না ফেরদৌস, নির্বাচনে বিজয়ী হলে চলচ্চিত্র তথা শিল্পীদের স্বার্থ উন্নয়নে কাজ করবেন এই অভিনেতা। ধুকতে থাকা বিএফডিসির উন্নয়নেও সুযোগ থাকলে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালনের চেষ্টা করবেন।

পুরো নির্বাচন জুড়ে ফেরদৌসের পাশে আছেন তার চলচ্চিত্রের সহকর্মীরা। নির্বাচনে মনোনয়ন পাবার পরই তারা ঘোষনা দিয়েছিলেন নির্বাচনে ফেরদৌসের হয়ে প্রচার করবেন তারা। শিল্পী সমিতির তারকাদের সরব উপস্থিতিতে এরই মধ্যে একদিন ফেরদৌসের প্রচারে নামেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, নিপুনসহ অন্যান্য তারকারা।
আর মঙ্গলবার ফেরদৌসের হয়ে জিগাতলা, শংকর, হাজারিবাগ এলাকায় ট্রাকে করে প্রচার চালান নায়িকা অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ফেরদৌস যেমন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছেন ঠিক তেমনই তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে এ এলাকার সবার প্রিয় নেতায় পরিণত হবেন। ভালো কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করবেন যেমনটা করেছেন বড় পর্দায় তার অভিনয় দিয়ে।
নির্বাচনের জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক’দিন আগে আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী জনসভা করেছেন। সেখানে জনসমুদ্র তৈরি হয়। আমি বিশ্বাস করি মানুষের ভালোবাসা এবং ভোটে আমি এগিয়ে যাব। আমরা যেসব জায়গায় গিয়েছি সেখানে সব মানুষ কথা দিয়েছেন তারা ভোট কেন্দ্রে আসবেন।
