রাষ্ট্রের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য সরকার কুক্ষিগত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন মঈন খান।
মঈন খান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সরকার নয়, তারা রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করে নিয়েছে নিজের স্বার্থে। তারা সংবিধানের কথা বলে, কিন্তু কোন সংবিধানে লেখা আছে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে নিয়ে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে!
নির্বাচন কমিশনকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখন কথা বলার সময় না। এখন আমাদের প্রতিবাদ করার সময়। আমরা ১৫ মাস ধরে লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছি। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করছি। কোনো সহিংস রাজনীতিতে বিএনপি বিশ্বাসী নয়।
তাদের মৌলবাদী দল হিসেবে বোঝানোর চেষ্টা চলছে- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপিকে মৌলবাদী দল হিসেবে বিদেশিদের বোঝানোর বৃথা চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু সেটা বিদেশিরা খায় না। সেজন্য গণতান্ত্রিক বিশ্বের দলগুলো ভুয়া নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
মঈন বলেন, বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যম বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থাকে উত্তর কোরিয়া মডেল আখ্যা দিচ্ছে। আর সরকার বলছে, তারা না কি বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল বানিয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম সেই দেশে গণতন্ত্র নেই কেন? আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়? এই সরকারকে আপনারা প্রশ্ন করুন, কেন তারা গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করছে।
সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার চায়- কেউ যেন তাদের সমালোচনা না করে। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। মানুষের ন্যায়ের শক্তির কাছে বন্দুকের শক্তি টিকতে পারে না। ৭ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন না হলেও সরকার ইলেকশনের নামে সিলেকশনের উৎসব পালন করেছে। অথচ সরকারি দলের লোকেরাও ভোট দিতে যায়নি।
তিনি বলেন, পরাশক্তির একটি বিভাজন নিজেদের স্বার্থে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও আরেকটি অংশ তাদেরকে সমর্থন দেয়নি। তারা বলেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মৃত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭ জানুয়ারি ভোট বর্জনের আহ্বানে লিফলেট বিতরণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দিয়েছে। এখন সরকারের বিরুদ্ধে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু হুমকি এসেছে যে মিছিল করলে ২৮ অক্টোবর যেভাবে আক্রমণ করেছে সেভাবে করবে।
আগামী ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি বিএনপি যে কালো পতাকা মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে তাতে হামলার হুমকি এসেছে বলে দাবি করছেন ড. আব্দুল মঈন খান।
সরকার দলের প্রতি অভিযোগ করে মঈন বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে না। তারা লগি-বৈঠার রাজনীতি করে। তারা দেশের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। সংবিধানের কথা বলে প্রতারণা করে যাচ্ছে। উন্নয়ন দিয়ে জনগণের মন ভুলিয়ে রাখা যায় না।
তিনি বলেন, ক্ষমতা দিয়ে তারা সরকার চালাতে পারে, কিন্তু রাজনীতির যে মূল উদ্দেশ্য মানুষের ভালোবাসা পাওয়া, সেটা সম্ভব না। এভাবে দেশ চালানো যায় না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, আমরা নব্য বাকশাল তথা বাকশাল-২ এর পদ্ধতির মূলোৎপাটন করতে চাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে। এই জাতীয়তাবাদের মধ্যে কিন্তু মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, চাকমা, গারো সব ‘উপজাতি’ ঐক্যবদ্ধ ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি এখন শোক সাগরে নিমজ্জিত: কাদের