ইসলামী ছাত্রশিবিরের নামে রগকাটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি জেনারেল এস এম ফরহাদ।
বৃহস্পতিবার টিএসসিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ বলেন, ‘রগকাটা লিখে গুগলে সার্চ করেন দেখবেন সব ক্রাইম ছাত্রলীগের নামে। সেখানে শিবির নামে কোনো ডকুমেন্ট পাবেন না। ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শিবিরের নামে নানা ধরনের ট্যাগ দেয় আওয়ামী লীগ।
ঢাবি শিবির সেক্রেটারি বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে ছাত্রশিবিরকে বাধা হিসেবে দেখেছিলো। এজন্যই রগকাটা ট্যাগ দেওয়াসহ নানাভাবে শিবিরের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়।
এস এম ফরহাদ বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য অনেক উপাদান কাজ করেছে। অনেকে হয়তো সেগুলো সমর্থন দেননি, কিন্তু কেউ বিরোধিতা করতে পারেননি। ফলে যখন একটা ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়, তখন সেটা প্রতিষ্ঠিত হতে বাধ্য। কিন্তু কাহিনিটা ভুল নাকি সঠিক, সেটার সিদ্ধান্ত দেবেন আপনারা। আপনারা যাচাই করে দেখবেন সেটা সত্য কি না।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার আত্মপ্রকাশের পর নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংগঠনটির সেক্রেটারি ফরহাদের নাম ছাত্রলীগের একটা কমিটিতেও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ বলেন, ছাত্রলীগের কমিটির কিছু প্রক্রিয়া আছে। আমি কখনো সেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করিনি। কখনো সিভি জমা দিইনি। তবু কেন আমাকে পদ দিলো, সে প্রশ্ন ছাত্রলীগকে করা উচিত।
ফরহাদ বলেন, বিতর্ক সংসদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আমার ছবি দেখা গেছে। আমি কেবল আয়োজক হিসেবে ছিলাম। শিক্ষার্থীদের মনে রাজনীতি নিয়ে এখন যে চিন্তা গঠন আছে, এটা গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী বয়ানের আউটপুট।
তিনি বলেন, তারা দেখেছে ছাত্র রাজনীতি মানে নেতাকে প্রটোকল দেওয়া, হলে আসন বণ্টন করা, ভিন্নমতকে নির্যাতন করা এবং কেউ কথা বলতে না পারা। কিন্তু আমূল সংস্কারের পর এসব পরিবেশ পরিবর্তন হলে শিক্ষার্থীরা রাজনীতি গ্রহণ করবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ৯ দফার সম্পৃক্ততার বিষয়ে ফরহাদ বলেন, এই আন্দোলন সব মানুষের ছিলো। বিভিন্ন নেতাকর্মী নিজেদের দলের পরিচয় ভুলে গিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী এখানে শামিল হয়েছেন। ছাত্রশিবিরও তার রিসোর্স নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। কোনটা কার পরিকল্পনা, কীভাবে তা বাস্তবায়ন হয়েছে, এসব কৃতিত্ব নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্পিরিটের সঙ্গে যায় না।
ফরহাদ বলেন, এখানে ছাত্রদল, বাম ছাত্র সংগঠনের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। ফ্যাসিবাদ কায়েমে ছাত্রলীগ যে ধরনের ঘৃণ্য কাজ করেছে, তার প্রতিটির বিচার হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীরা সবাই আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা মনে করি। কেউ যদি আইনি সহায়তা চায়, আমরা ছাত্রশিবির থেকে তা দেবো।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরকে থামাতে ফ্যাসিবাদ দুটি কাজ করেছে। প্রথম হচ্ছে, শিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে ওয়ার্ড অফিস পর্যন্ত সিলগালা করে কাজ করতে না দেওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, শিবিরের ব্যাপারে ভীতি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের পরিচয় ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের কাছে ফ্যাসিবাদের মিথ্যা বয়ান ভেঙে গেছে। কারণ, আমি তো তাদের সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছিলাম। আমার ব্যক্তিত্ব, আচরণ যারা বিশ্লেষণ করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের নতুন করে নেতিবাচকভাবে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তারাই অনলাইনে ফিডব্যাক দিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে ঢাবিতে ৯০ শতাংশ পজিটিভ ফিডব্যাক পাবেন। ফ্যাসিস্টদের এতদিনের বয়ানকে মিথ্যা হিসেবেই সবাই গ্রহণ করেছেন।
শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে ফরহাদ বলেন, ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের ক্ষেত্রে কমিটিতে কে থাকবে, সেটা তাদের একটা অর্গানাইজেশন ঠিক করে দেয়। কিন্তু শিবিরের কমিটি ঘোষণা বা বিলুপ্ত শিবিরের নিজের। শিবিরের অধীনস্থ জনশক্তি সিদ্ধান্ত নেয় সভাপতি কে হবে। সেটা বিবেচনা করে ব্যক্তিত্ব ও সক্ষমতা বিবেচনায়। শিবিরের কর্মীরাই নেতা নির্বাচিত করেন। শিবির একটা স্বাধীন সংগঠন। নিজস্ব গঠনতন্ত্র এবং ফ্রেম ওয়ার্ক আছে। সেটা ওপেন। অনলাইনে সার্চ করলেই পাবেন। সেই অনুযায়ীই কাজ করা হয়।
‘যৌক্তিক সমালোচনাকে স্বাগত’
এদিকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, কেউ সংশোধনের জন্য শিবিরের যৌক্তিক সমালোচনা করলে তাকে স্বাগত জানাই। পরিশুদ্ধ নিয়তে সুধী হিসেবে এ সমালোচনা জারি রাখুন। কিন্তু আমরা কারো সমালোচনা করে সময় নষ্ট করতে চাই না।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

ছাত্র শিবির সেক্রেটারি বলেন, আমাদের হাতে অনেক কাজ। শহীদ ও আহতদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে খুব ভার অনুভব হয়। এই রক্তের নিকট আমাদের অনেক দায়। জীবনের মায়া ভুলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া গাজীদের নিকট আমাদের অনেক দায়।
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, এখনো শহীদের পরিবারের চোখে চোখ রেখে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা খুঁজে পাই না। নিস্তব্ধ হয়ে যাই। তাই আমাদের মুখে কথার ফুলঝুরি ফোটা ঠিক নয়। যখন শহীদের চেহারা সামনে ভেসে উঠে, বোবাকান্না ফিল করি। আমরা আত্ম-সমালোচনা করি। ভুল হলে তা কারেকশন করি। নতুন কৌশলের জন্য রবের জ্ঞানভাণ্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকি। সুদূরপ্রসারী চিন্তা নিয়ে লক্ষ্যের দিকে হেঁটে চলি। এটাই আমাদের কর্মপন্থা।
এবার কারবালায় পরিণত করার হুমকি মামুনুলের