এনসিপি আত্মঘাতি পথে, মন্তব্য টিআইবির

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৪৩ পিএম

কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হলেও কর্তৃত্ববাদী চর্চার অবসান হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক  ড. ইফতেখারুজ্জামান। ফলে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি দেখছে টিআইবি।  

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ‌‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছরের ওপর পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

৬০ পৃষ্ঠার এ  প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম ও মো. জুলকারনাইন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট কোনো রোড ম্যাপ না থাকায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশানের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। তথ্য প্রকাশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও বাধার মুখে রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।  প্রতিদিন ঢাকা শহরে ৫৩ টি বাসস্ট্যান্ড থেকে দুই কোটি ২১ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে জানিয়েছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সংস্কৃতি চলমান। রাজনৈতিক দলগুলোতে কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। র‌্যাব ও গোয়ান্দা সংস্থাগুলোর সংস্কার হয়নি, যা দুর্ভাগ্যজনক। আইনশৃঙ্খলা সরকারের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা।

ঢালাও মামলা, আসামির ওপর হামলা ও জামিন নাকচ মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। রাজনৈতিক দলীয়করণের প্রবণতা এখনও চলমান। এছাড়া, বিচার-পুলিশ ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন টিআইবি। 

প্রতিবেদন বলা হয়, নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি নেই। কর্মসংস্থান আশানুরূপ হয়নি, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো দখল, চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চলমান। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও নিশ্চিত হয়নি বলে এ গবেষণা প্রতিবেদন উঠে এসেছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ বিচারক, কৌশুলিদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক আছে। তাদের দক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট মামলা না দেয়ায় মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পুরোনো ধারা বিদ্যমান রয়েছে। আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও আইনজীবীরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

১৫ জুলাই থেকে আট আগস্ট পর্যন্ত ঘটনায় দায়মুক্তির সমালোচনা করা হয়েছে গবেষণায়। ঢালাও প্রতিশোধপ্রবণ আটক ও জামিন নামঞ্জুরের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

নতুন রাজনৈতিক দল যারা আন্দোলনে সামনের সারিতে ভূমিকা রেখেছিল তাদের মধ্যেও  কর্তৃত্ববাদী আচরণ দেখা যাচ্ছে। তারা নিজেদেরকে আন্দোলনের প্রধান শক্তি দাবি করে তারাও আগের মতোই অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উপর বলপূর্বক সংস্কৃতির মধ্যে রয়ে গেছে। 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সংস্কৃতি চলমান। রাজনৈতিক দলগুলোতে কার্যকর কোন সংস্কার হয়নি।সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক যাত্রা অশুভ ছিল। ওই দিন বিকেল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের একাংশ দলবাজি, চাঁদাবাজি, মামলা, বাণিজ্য শুরু করে। গত এক বছর ধরে তা আরও বেড়েছে। এমনকি দলের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নিয়েও এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এর ফলে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের জন্মলগ্ন থেকে একই রোল মডেল অনুসরণ করেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, নির্বাচনকালে মব সন্ত্রাস উদ্বেগ তৈরি করছে। যারা এখন নিজেদের ক্ষমতায়িত ভাবছে,  সুতরাং তারা যা চাইবে তাই হবে এটাই কর্তৃত্ববাদী আচরণ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কিংস পার্টি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে  উল্লেখ করে বলা হয় তাদের সাথে সরকারের দুজন উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে জানিয়েছে টিআইবি। তবে সংস্থাটি বলছে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত, জনগণের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির বিকশিত হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থের উৎসের অস্বচ্ছতা, দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, অনিয়মের বিদ্যমান সংস্কৃতি ধারণ করে আত্মঘাতী পথে ধাবিত হচ্ছে দলটি।

নির্বাচনের তারিখ, সংস্কার ও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, বিতর্ক ও সহনশীলতার ঘাটতিতে সংস্কার ও নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন, সংস্কার, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান অনড়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন, মতাদর্শিক লড়াই ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে।গবেষণা প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য সত্ত্বেও যেসব সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর সাংবিধানিক ও আইনি বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সে প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত। ফলে সংস্কারের আশায় ধাক্কা লাগতে পারে, রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সুশাসনের আলোকে বিচার ও প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেশ কিছু ঘাটতি দেখা গেছে। এতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি।পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংস্কার কমিশনগুলো যেসব সুপারিশ দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

তথ্য প্রকাশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো বাধার মুখে রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। আইনের সংস্কার দূরে থাকুক, এ পর্যন্ত তথ্য ও মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়নি। তথ্য এবং মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠন অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের তালিকায় কেন প্রাধান্য পায়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইফতেখারুজ্জামান। 

তিনি বলেন, ‘এক ধরনের বিশ্ব রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে যে এক বছর পার হয়ে গেছে, অথচ এখনো সেটি (তথ্য ও মানবাধিকার কমিশন) গঠিত হয়নি। এসব আইন সংস্কার দূরে থাকুক, এ দুটি কমিশন এখন পর্যন্ত নেই। এ দুটি কমিশন গঠনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

নাগরিক সমাজের অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতার ক্ষেত্রগুলোতে যে ধরনের আইনি প্রতিবন্ধকতা আছে, তা দূর করতে হবে বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এই আইন বাস্তবায়নে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনে বেশ কিছু দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র রয়ে গেছে বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

টিআইবি বলছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, বরং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ও ভিন্ন উপায়ে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ফলে অবাধ তথ্য প্রবাহ ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ সময়কালে সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ সময় ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হন, যাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হন। এছাড়া ২৪ জনের বেশি গণমাধ্যমকর্মীকে পদচ্যুত করা হয়, ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিক চাকরি হারান এবং ৮টি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও ১১টি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সংঘবদ্ধ ‘মব’ তৈরি করে বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমাবদ্ধ করা হয় এবং ২০২২ সালের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা সংশোধন হলেও তা কার্যকরভাবে গণমাধ্যমবান্ধব হয়নি। পাশাপাশি তথ্য কমিশনকে সক্রিয় না করা এবং তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কারে সরকারের উদাসীনতা স্পট।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ নিয়ে টিআইবি বলেছে, কিছু ধারা সংশোধন হলেও জাতিসংঘের সুপারিশ পুরোপুরি মানা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট সংজ্ঞা রয়ে গেছে, যা মতপ্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ থাকায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ও নজরদারিমূলক কাঠামো গঠনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

টিআইবি আরও জানিয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয়নি। দপ্তরগুলোতে তথ্য গোপনের প্রবণতা এবং স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ না করার চর্চা এখনো বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

এতে বলা হয়, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব গত এক বছরে অনেক বেশি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগের কারণে নারীর অধিকার, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, যা বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত এক বছরে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২১ জন নিহত হয়েছেন। মব জাস্টিস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি মামলা বাণিজ্যের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১১ মাসে পুলিশের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৭৬১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট এক হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশদাতা, হত্যার ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০২টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩৮টি হচ্ছে হত্যা মামলা। এসব মামলায় পতিত সরকারের প্রায় ৮৭ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার রয়েছেন।প্রায় ৭০ শতাংশ মামলার তদন্তে ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং ৬০ থেকে ৭০টি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।গত এক বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪২৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং ২৭টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব মামলায় মোট আসামি ২০৬ জন, যাদের মধ্যে ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের আগেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এতে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় অভিযুক্তদের বিচারও চলমান রয়েছে।শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং তাদের বিচার শুরু হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের এক জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত) দায়ের করা প্রায় সব হয়রানিমূলক মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একাত্তর/এসি
গেলো বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মোট ১২১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন।
গেলো বছরের জুলাই-আগস্টে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় হয়েছে ৩৫১টি, যার মধ্যে হত্যা মামলা ২১৪টি। ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার...
পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন সমন্বয় কমিটি বাতিল ইস্যুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
শুধু টিআইবি কেন, সবাই বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে কথা বলছে। আর জনগণের পক্ষে যারা কথা বলবে বিএনপি তাদেরই স্বাগত জানাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই স্নায়ুক্ষয়ী মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাতে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের মুকুট মাথায় তুললেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচ জুড়ে বোতলবন্দি করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের মুকুট মাথায় তুলেছেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে স্পেনের ট্রফি উদযাপনের রাতেই বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো আরও এক সোনালী ইতিহাস। রোববারের সেই রক্তক্ষয়ী ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলে হারিয়ে...
নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম মহাযজ্ঞের অবসান ঘটল এক চরম নাট্যমঞ্চের মধ্য দিয়ে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর