বিএনপির প্রতি প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক আক্রমণ ও অশালীন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে নিয়ে রুচিহীন বক্তব্য দেওয়া হলেও দলটি ধৈর্য ধরে প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত রয়েছে। এটি বিএনপির দুর্বলতা নয়, বরং রাজনৈতিক উদারতা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বৈষম্যহীন সমাজ গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা সম্প্রতি যে ধরনের রুচিহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গেই কেবল তুলনীয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিয়া পরিবারসহ সমগ্র বিএনপিকে নিয়ে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, আমরা কিন্তু এখনো তার পাল্টা জবাব দিচ্ছি না। এটা আমাদের চরম রাজনৈতিক উদারতা। একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য পরিহার করে ভাষায় রাজনৈতিক শালীনতা ফিরিয়ে আনার আহবান জানান তিনি।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং বিরোধী দলগুলোর কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর মতো ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও শালীনতাহীন আচরণ রাজনৈতিক পরিবেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু দল অসঙ্গতিপূর্ণ অবস্থান নিচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, যারা একসময় বারবার বলেছিলো তারা আওয়ামী লীগকে দেখতে চায় না, এখন আবার তারাই বলছে—‘ভালো আওয়ামী লীগ’ হলে তাদের সঙ্গে নিতে আপত্তি নেই কিংবা ‘হাসিনা ভালো হয়ে ফিরে এলে’ গ্রহণ করবেন। এই ধরনের বক্তব্যের আসল মানে কী?
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ্যানি বলেন, কোনো আন্দোলনই একক কোনো গোষ্ঠীর বা দলের হতে পারে না। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর—সারা বছরজুড়ে রাজপথে বিএনপি ও আপামর জনতা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ সমর্থন করেছিল বলেই পাঁচ আগস্টের বিপ্লব সফল হয়েছিৈলা। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এখন কিছু বিরোধী পক্ষ দাবি করছে, তারা ছাড়া নাকি জুলাই অভ্যুত্থান হতো না। যা ইতিহাসকে বিকৃত করার সামিল।
সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করুন, আর ভুল সিদ্ধান্ত থাকলে তার গঠনমূলক সমালোচনা করুন। দেশে বিভেদ তৈরি করে কোনো লাভ নেই। এছাড়া যারা নির্বাচনের সময় বাহির থেকে সহায়তা পেয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করেছিলো, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি দেশ গঠনে সবাইকে ইতিবাচক রাজনীতি করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেন, বিরোধী জোটের রাজনীতিতে ভাঙনের লক্ষণ এখন স্পষ্ট; তাই সরকারি দলের পতন নিয়ে না ভেবে বিরোধী পক্ষকে আগে নিজেদের ভেতরের রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলার আহবান জানান তিনি।
বাংলাদেশের অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করে না, তারা আজ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা অত্যন্ত লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, তাদের হাতে দেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। জামায়াতকে ‘ভণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হলে দেশের দায়িত্ব কি জামায়াত নেবে? যেখানে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জামায়াত আমির নিজেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করার কথা স্বীকার করেছিলেন, সেখানে ক্ষমতার লোভে তাদের এখনকার অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টে গেছে।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের পরিকল্পনা ছিলো আওয়ামী লীগ উধাও হওয়ার পর বিএনপিকে ধ্বংস করে জামায়াত ও এনসিপিকে ক্ষমতায় আনা, কিন্তু পরবর্তীতে তাকেও নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হয়।
অবশেষে নোংরামি, ফালতু কথা ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বন্ধ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে জাতীয় ঐক্যে ফিরে আসার আহবান জানান তিনি।
