কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব প্রায় শেষের পথে। প্রতিদিন ভিন্ন চারটি সময়ে শুরু হওয়া ম্যাচগুলো এখন শুরু হচ্ছে দুটি সময়ে। একই সময়ে একটি গ্রুপের দুটি খেলা কেন শুরু হচ্ছে, এটা কি এমনিতেই? নাকি এর পেছনে কোনো কারণ রয়েছে?
‘সুবিধা’ নিয়েছিল আর্জেন্টিনা
১৯৩০ থেকে শুরু হওয়া প্রতিটি আসরেই গ্রুপ পর্বের খেলেগুলো আলাদা সময়ে হতো। তবে ১৯৭৮ সালের পর এর বিরোধিতা শুরু হয়। আর্জেন্টিনায় আয়োজিত সেই আসরে স্বাগতিকরা সুবিধা নিতে তাদের খেলাগুলো সবার পরে রাখে। সেই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরুতে শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে চার গোলের ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন ছিলো আর্জেন্টিনার। ম্যাচে আগের তারা জেনে যায় দ্বিতীয় পর্বে যেতে তাদের সমীকরণ কি। ম্যাচটি ৬-০ গোলে জয়লাভ করলেও ম্যাচটি ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ।
সমস্যার শুরু
মূলত সমস্যাটি শুরু হয় ১৯৮২ সালের পরের বিশ্বকাপ থেকে। স্পেনে হওয়া সেই আসরে গ্রুপ ‘বি’ তে ছিলো জার্মানি, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও চিলি। সেই আসরে আলজেরিয়া তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচটি অস্ট্রিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে গেলেও চিলিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখে আরব এই দলটি।
পশ্চিম জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া ম্যাচটি ছিলো গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে সমীকরণ অনেকটা এমন দাঁড়ায় যে, পশ্চিম জার্মানি যদি এক গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে যায়, তাহলে উভয় দল চলে যাবে পরবর্তী পর্বে।
যদি পশ্চিম জার্মানি তিন গোলের বেশি ব্যবধানে জিতে যায়, তাহলে অস্ট্রিয়া বাদ পড়বে। ম্যাচটি যদি জার্মানি তিন গোলে জিতে তাহলে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যে যে দল বেশি গোল করবে তারা যাবে। আর পশ্চিম জার্মানি হারলে বা ড্র করলেই বাদ হয়ে যাবে।

২৫ জুন ম্যাচটি শুরু হলে ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করে পশ্চিম জার্মানি। এরপর যেন খেলার চিত্র অনেকটাই বদলে যায়, দল দুটি শুধু সময় নষ্ট করে। কোনো দলেরই গোল করার আর কোন ইচ্ছা দেখা গেলো না। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে মাঠ ছাড়লে, আলজেরিয়াকে বিদায় করে উভয় দল পরবর্তী পর্বে চলে যায়।
টনক নড়ে ফিফার
এই ম্যাচের পরেই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। ফিফা নতুন নিয়ম চালু করতে বাধ্য হয়। পরের আসর থেকেই নিয়ম করা হয়- গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে শুরু হবে এবং সেই নিয়ম এখন পর্যন্ত চালু আছে।
একাত্তর/আরআই/এসি
