স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে খেললেও সরকারি গেজেটে নাম নেই প্রান গোবিন্দ কুন্ডুর। ভুলভাবে থাকা অন্য একটি নামের ব্যক্তি আসলে তিনি।
এটি নিশ্চিত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক। যদিও এখনও সেই চিঠির জবাব মেলেনি। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে থাকা, এই ফুটবল যোদ্ধা দেশে ফিরে, সাতমাস দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও, নিজের নাম-ঠিকানার সংশোধন করতে পারেননি। একাত্তরকে তিনি বলেছেন, বার্ধক্যে এসে তার এখন একটাই চাওয়া, নিজের নামটি সঠিকভাবে দেখতে চান, সরকারি তালিকায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফুটবল খেলোয়াড়দের অসাধারণ ভূমিকা ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ফুটবল খেলোয়াড়রা একটি পর্যায়ে তাদের অস্ত্র ক্যাম্পে জমা রেখে ফুটবল খেলার মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলেন, তার নজির বিশ্ব ইতিহাসে নেই।
মুক্তিযোদ্ধা ফুটবলাররা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। ক্রীড়াঙ্গনের শ্রেষ্ঠ সন্তান। ভারতের মাটিতে উড়িয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা, খেলেছে ১৬টি প্রদর্শনী ম্যাচ। সেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু । ফুটবল ফেডারেশনের দলিল দস্তাবেজসহ সব জায়গাতেই আছে তার নাম।
তবে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি গেজেটে, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের যে তালিকা দেয়া হয়েছে, সেখানে তার নাম-ঠিকানা এসেছে ভুল ভাবে। এমনকি তার বাবার নাম চিত্ত বিনোদ কুন্ডু হলেও, ভুল হয়েছে সেখানেও। দূর প্রবাসে থাকায়, সেই খবর তার কাছে আসে অনেক বছর পর।

পবিন্দ কুন্ড, পিতা সুকুমার কুন্ড- গেজেটে এই নাম থাকলেও, এমন কোন খেলোয়াড় ছিলেন না স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন, অস্তিত্ব নেই গেজেটে থাকা নামের ব্যক্তির। আর প্রাণ গোবিন্দ কুণ্ডুই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য।
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সতীর্থদের অনেকের চিঠি, এমনকি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রমাণপত্র নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, এই ফুটবল যোদ্ধা। তিন’শ টাকার দলিলে দিয়েছেন হলফনামাও। এরপরও সরকারি গেজেটে তার নামটি সংশোধন করা হয়নি এখনো।
বার্ধক্যে থাকা এই মুক্তিযোদ্ধার প্রাণের দাবিটি হয়তো পৌঁছাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কানে। সুদূর নিউইয়র্কে থেকেও সেই দিনটির জন্যই প্রহর গুনছেন তিনি। তবে, নিউইয়র্কবাসীর প্রত্যাশা, যেন সামান্য এই দাবি যেন সরকার গোবিন্দ কুন্ডু বেঁচে থাকতেই যেন পূরণ করে।
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।
