ক্রিকেটে রাজনীতি টেনে আনা পাকিস্তানের জন্য কোনো নতুন ঘটনা নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসি ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিতর্কে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হোক, কিংবা ভারতের এশিয়া কাপের ট্রফি আটকে রাখার সিদ্ধান্ত, পাকিস্তান বারবার দেখিয়েছে কীভাবে খেলাধুলায় রাজনীতি টেনে আনতে হয়।
১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের খেলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঠিক আগে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এই আলোচনায় দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকেও টেনে আনেন।
পাকিস্তান সুপার লিগের একটি সংবাদ সম্মেলনে নাকভিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আসন্ন ভারত ম্যাচ বয়কট করার অনড় অবস্থানের কারণে আইসিসি যে 'হুমকি' দিচ্ছে, সে বিষয়ে তার মন্তব্য কী।
জবাবে পিসিবি প্রধান আবারও তার রাজনৈতিক মানসিকতার পরিচয় দেন এবং জেনারেল আসিম মুনিরকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে নাকভি বলেন, আমি ভারত বা আইসিসির হুমকিতে ভয় পাই না, পাকিস্তান সরকারও ভয় পায় না। আর ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের কথা তো আপনারা জানেনই, তিনি কখনও ভীত হন না।
পাঠকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মে মাসে আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক পদমর্যাদা 'ফিল্ড মার্শাল' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ভারতের সাথে সীমান্ত উত্তেজনা এবং 'অপারেশন সিঁদুর' এর প্রেক্ষাপটে তাকে এই পদোন্নতি দেয়া হয়েছিলো।
বয়কট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অবস্থান পরিবর্তন
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসি এবং অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবহিত করার পর, ভারত বয়টকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ঘোষণা করা হয়, বহুপাক্ষিক আলোচনার ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জাতীয় ক্রিকেট দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার নির্দেশ দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী সকল দেশগুলোর মধ্যে এই বিশ্বজনীন খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
