নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সুপার এইট’ নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। কলম্বোর সিংহলী স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বুধবার টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৯ উইকেটে ১৯৯ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হাঁকান সাহেবজাদা ফারহান। জবাবে ৯৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় আইসিসি সহযোগী সদস্য- নামিবিয়া।
২৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ৫৮ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। অন্যদিকে বল হাতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং (৪-১৬) উপহার দেন উসমান তারিক।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে এই জয়ের ফলে পাকিস্তানের সুপার এইট নিশ্চিত হলো। অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো আফ্রিকান প্রতিনিধি নামিবিয়া।

২০২৫ সাল থেকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে এটি ফারহানের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। ম্যাচ শেষে এই ডানহাতি ব্যাটার বলেন, আমি গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি এবং কোনো ম্যাচ মিস করি না। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই কঠোর পরিশ্রমেরই ফল পেলাম আজ। শুরুতে উইকেট সহজ ছিল না। আমি অধিনায়ককে বলেছিলাম ষষ্ঠ ওভার পর্যন্ত স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলব, এরপর নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক ঢঙে ব্যাটিং করব।
রোববার ভারতের কাছে হারের পর বুধবার দ্বিতীয়বার হারলে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেত এবং গ্রুপ ‘এ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা নেদারল্যান্ডস পরবর্তী রাউন্ডে চলে যেত। কিন্তু ফারহান দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেই সমীকরণ পাল্টে দেন। শেষ ওভারে গেরহার্ড ইরাসমাসের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি।
ফারহানকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক সালমান আঘা, যিনি ২৩ বলে ৩৮ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের জুটি থেকে আসে ৬৭ রান। বাবর আজম একাদশে না থাকায় পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা শাদাব খানও ছিলেন বিধ্বংসী। তিনি ২২ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেন। ফারহানের সাথে তাঁর অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের ঝোড়ো জুটি (৬.৪ ওভারে) পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়।

২০০ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া কখনোই জয়ের পথে ছিল না। ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প ২৩ রান করে আশা জাগালেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা।
ভারতের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে দল থেকে বাদ পড়া শাহীন শাহ আফ্রিদির অনুপস্থিতিতে উসমান তারিক ও শাদাব খান বল হাতে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। শাদাব তিনটি এবং উসমান তারিক চারটি উইকেট নিয়ে নামিবিয়াকে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে দেন।
সুপার এইটে পাকিস্তান তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী রোববার কলম্বোতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ফারহানের এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনটি সেঞ্চুরি হওয়ার রেকর্ড হলো।
তাঁর আগে সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাথুম নিসাঙ্কা এবং মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার যুবরাজ সামা সেঞ্চুরি করেন। এছাড়া আহমেদ শেহজাদের (২০১৪ বনাম বাংলাদেশ) পর দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির গৌরব অর্জন করলেন সাহেবজাদা ফারহান।
ভিনি বনাম প্রেস্টিয়ানি: বর্ণবাদ নিয়ে ফুটবলে নতুন তোলপাড়!