চলমান বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা দক্ষিণ আফ্রিকা আরও একটি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। রোববার (১ মার্চ) অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সুপার এইটের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল প্রোটিয়ারা। তবে হারলেও লড়াই করে মাঠ ছেড়েছে সিকান্দার রাজার জিম্বাবুয়ে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সিকান্দার রাজা। তবে এদিন শুরু ও শেষ, কোনটাই ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। মাঝখানে দৃঢ় পায়ে দাঁড়িয়ে দেড়শর ওপর স্ট্রাইরেটে রান তুলেছেন কাপ্তান রাজা। তার ৭৫ রানের এক ঝলমলে ইনিংসে জিম্বাবুয়ের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় সাত উইকেট হারিয়ে ১৫৩।
রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালো ছিলো না। কুইন্টন ডি কক ও এইডেন মার্করাম দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে দল। তবে সেই চাপ সামাল দেয় প্রোটিয়া মিডল অর্ডার। রায়ান রিকেলটন মাথায় আঘাত পেলেও দমে যাননি; টানা কয়েকটি ছক্কা মেরে ৩১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস মাত্র ১৯ বলে ৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে জয় সহজ করে দেন। ডেভিড মিলার করেন ২২ রান। শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবস ও জর্জ লিন্ডের ষষ্ঠ উইকেট জুটি কোনো বিপদ হতে না দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের কাছে বড়ো ব্যবধানে হারলেও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাট হাতে ৭৩ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতেও তিন উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের ধন্যবাদ জানান জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা।
ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আমাদের জন্য বড়ো অর্জন ছিলো। এতে করে আগামী বিশ্বকাপের টিকেট সরাসরি নিশ্চিত হয়েছে। যদিও আমরা ম্যাচ হেরেছি, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচ থেকে আমরা মূল্যবান শিক্ষা নিয়েছি। একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি আমার দলের ছেলেদের নিয়ে গর্বিত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাজা জানান, ২০২৬ সালে জিম্বাবুয়ের তিনটি হোম সিরিজ ও একটি অ্যাওয়ে সিরিজ চূড়ান্ত হয়ে আছে। এছাড়া ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ম্যানেজমেন্ট একটি ব্লু-প্রিন্ট বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করছে।
সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে গ্রুপ ডি-এর চেনা প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে কিউইদের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা একপেশে জয় পেলেও কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে মিচেল স্যান্টনারের দল যে সহজে ছেড়ে দেবে না, তা নিশ্চিত। কলকাতার মাঠে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্মৃতি প্রোটিয়াদের জন্য সুখকর না হলেও, এবার তারা জয় দিয়ে আহমেদাবাদের ফাইনালের টিকেট কাটতে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান মাকরাম।
