রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ব্রাজিলকে একটি শক্তিশালী রক্ষণভাগ বা ডিফেন্সিভ ফাউন্ডেশনের ওপর ভিত্তি করে এগোতে হবে বলে মনে করেন দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেলেসাওদের এই অভিজ্ঞ কোচ বিশ্বাস করেন, শিরোপা জয়ের পথে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা হবে প্রধান শক্তি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাস ও সময়সূচী অনুযায়ী, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারের আসরে 'গ্রুপ সি'-তে স্থান পেয়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আনচেলত্তি তার রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত। জানা গেছে, আগামী ১৮ মে-র মধ্যে তিনি ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। রক্ষণভাগকে অগ্রাধিকার দিয়ে দল গঠনের মাধ্যমে ব্রাজিল তাদের হেক্সা জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে চায়।
সামগ্রিকভাবে, আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল দল এবার আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে বিশ্বমঞ্চে তারা অপরাজিত থেকে ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তুলতে পারে।
ব্রাজিল ফুটবল মানেই একসময় ছিল নজরকাড়া 'জোগা বোনিতো' বা নান্দনিক ফুটবলের প্রদর্শনী। তবে গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের পর সেই চিরচেনা ছন্দে ভাটা পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফুটবলীয় জাদুকরী ছন্দের অভাব এখন প্রকট। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই বিষয়টিকে মোটেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু প্রতিভা দিয়ে নয়, বরং রক্ষণের দৃঢ়তা দিয়েই বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা চারজনের দুটি রক্ষণাত্মক লাইন তৈরি করেছিলেন যাতে রোমারিও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। আবার ২০০২ সালে লুইজ ফেলিপে স্কলারিও তিনজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে দল সাজিয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন। রক্ষণ ভালো না করে জেতার আর কোনো বিকল্প নেই।

আনচেলত্তির মতে, যারা সবচেয়ে বেশি গোল দেয় তারা নয়, বরং যারা সবচেয়ে কম গোল হজম করে তারাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে। তিনি নিজেকে ‘রক্ষণাত্মক কোচ’ হিসেবে পরিচয় দিতে অপছন্দ করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলের জন্য রক্ষণভাগের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের শেষবারের মতো ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ব্রাজিল। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই লুকা মদ্রিচের শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। এই প্রীতি ম্যাচটি ব্রাজিলের রক্ষণাত্মক কৌশলের কার্যকারিতা প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরুর আগে ব্রাজিলিয়ানদের সেই চিরাচরিত শৈল্পিক ফুটবলের অভাব থাকলেও, আনচেলত্তি একটি সুসংগঠিত ও দুর্ভেদ্য দল গঠনের মাধ্যমেই হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
আর্জেন্টিনা-জাম্বিয়া ম্যাচের শুরুর একাদশেই থাকছেন মেসি
ম্যারাডোনার সেই ‘ঈশ্বরের ঘর’ এখন ক্ষুধার্তের অন্নদাতা