হাতে সময় ৪০ দিনেরও কম, অথচ ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। যে টুর্নামেন্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা থাকার কথা ছিল, সেখানে গ্রুপ পর্বের অধিকাংশ ম্যাচের গ্যালারি এখনও ফাঁকা! তবে এই শূন্যতার কারণ ফুটবলের প্রতি অনীহা নয়, বরং টিকিটের ‘গলাকাটা’ দাম। ফিফার মাত্রাতিরিক্ত লোভের কাছে সাধারণ ফুটবল প্রেমীরা এখন রীতিমতো অসহায়।

সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে আগামী ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। কিন্তু এই ম্যাচের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে মাথা ঘুরিয়ে দেয়া অংকের টাকা। সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম শুরুই হয়েছে ১,১২০ ডলার থেকে, যা গিয়ে ঠেকেছে ৪,১০৫ ডলারে! এমনকি অধিকাংশ টিকিটের গড় দামই রাখা হয়েছে ২,০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা)। আর, যারা একটু আয়েশ করে ‘হসপিটালিটি প্যাকেজে’ খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য একেকটি সিটের দাম ধরা হয়েছে ৬,০৫০ ডলার পর্যন্ত।
ফাইনালের টিকিট যেন সোনার হরিণ: গ্রুপ পর্বের যদি এই হাল হয়, তবে ফাইনাল নিয়ে তো কথা বলাই বাহুল্য। এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামী টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১,০০০ ডলার! গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার টিকিট বিক্রির পর থেকেই ফুটবল ভক্তরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এখনও ‘লাস্ট মিনিট সেলস’ সেকশনে টিকিট পড়ে আছে, যা প্রমাণ করে যে দামের চোটে ভক্তরা মাঠ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের টিকিটের চাহিদা হবে ‘একসাথে ১০০০ বছরের বিশ্বকাপের সমান’। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। ইনফান্তিনোর সেই আকাশচুম্বী আশার গুড়ে এখন বালি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাইনামিক প্রাইসিং আর অতিরিক্ত মুনাফা লাভের লালসাই এই স্থবিরতার প্রধান কারণ। ফুটবল প্রেমীদের কথা, ফিফা তাদের পকেটে কাটতে ভক্তদের মাঠের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।
শেষ মুহূর্তের মরিয়া চেষ্টা: টিকিট বিক্রি না হওয়ায় গত মাসের শেষের দিকে ফিফা তড়িঘড়ি করে আবারও ‘লাস্ট মিনিট টিকিট ফেজ’ ঘোষণা করেছে। ১০৪টি ম্যাচের সবকটির টিকিটই এখন ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বিক্রির চেষ্টা চলছে। কিন্তু যে সাধারণ ভক্তরা চার বছর ধরে এই মহাযজ্ঞের অপেক্ষা করেন, তারা কি ২,০০০ ডলার দিয়ে ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচ দেখার বিলাসিতা করতে পারবেন?

ফুটবলকে বলা হয় সাধারণ মানুষের খেলা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের এই চড়া দামের বাজার দেখে মনে হচ্ছে, এবার গ্যালারিতে কেবল কর্পোরেট টাইকুন আর ধনকুবেরদেরই দেখা মিলবে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক, সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: ফুটবল কি তবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেল?
