ফর্ম যতই দুর্দান্ত হোক, ড্রেসিংরুমে কোচের সমালোচনা করলে যে দলে জায়গা পাওয়া যায় না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন উরুগুয়ের হেড কোচ মার্সেলো বিয়ালসা। উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজের বিশ্বকাপ খেলার শেষ স্বপ্নটাও গুঁড়িয়ে দিলেন এই ‘এল লোকো’ খ্যাত মাস্টারমাইন্ড। রোববার ঘোষিত উরুগুয়ের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের কোনো জায়গা হয়নি। সুয়ারেজের পাশাপাশি ৩০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার নাহিতান নানদেজকেও দলে না রেখে বুড়োদের ছেঁটে ফেলার কড়া বার্তা দিলেন মার্সেলো বিয়ালসা।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি নিজেই উরুগুয়ে দলে ফেরার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়ে বলেছিলেন, দেশের প্রয়োজনে বিশ্বকাপের ডাক এলে তিনি কখনোই না বলবেন না।
ইন্টার মায়ামির হয়ে এই মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে মাত্র ৭টি ম্যাচে স্টার্ট করে ৬১৪ মিনিট খেলেই ৬টি গোল করেছেন সুয়ারেজ; মায়ামির জার্সিতে তাঁর চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু মেসি (১২টি)। কিন্তু ক্লাবের এই রাজকীয় ফর্মও কোচের মন গলাতে পারেনি।

এর পেছনে অবশ্য ফুটবলীয় কারণের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কই বেশি কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিয়ালসার কোচিংয়ের ধরণ নিয়ে কিছুদিন আগেই কড়া সমালোচনা করেছিলেন সুয়ারেজ, দাবি করেছিলেন বিয়ালসা উরুগুয়ের ড্রেসিংরুমকে দুভাগে বিভক্ত করে ফেলেছেন। পরে, সুয়ারেজ ক্ষমা চাইলেও বিয়ালসা যে তা ভোলেননি, স্কোয়াড ঘোষণাতেই তা স্পষ্ট।
সুয়ারেজকে বাদ দিলেও রিয়াল মাদ্রিদের মহাতারকা ফেদেরিকো ভালভার্দেকে ঘিরেই মূলত উরুগুয়ের মাঝমাঠের ছক সাজিয়েছেন বেলসা। টটেনহ্যামের রদ্রিগো বেনটানকুর, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানুয়েল উগার্তে এবং ব্রাগার রদ্রিগো জালাজারদের নিয়ে গড়া মাঝমাঠ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চড়া প্রেসিংয়ে পিষে ফেলার চেনা কৌশল নিতে যাচ্ছেন তিনি।
রক্ষণভাগে থাকছেন বার্সেলোনার রোনাল্ড আরাউহো এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের জোসে মারিয়া জিমেনেজ। আক্রমণভাগে সুয়ারেজের জায়গায় নাম্বার নাইন পজিশনের জন্য লড়াই হবে ডারউইন নুনেজ, রদ্রিগো আগুয়েরে এবং ফেদেরিকো ভিনাসের মধ্যে।

তবে মজার ব্যাপার হলো, উরুগুয়ের প্রধান ভরসা নুনেজ গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁর ক্লাব আল-হিলালের হয়ে কোনো ম্যাচই খেলেননি! সাবেক ব্যালন ডি'অর জয়ী করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ানোর পর ক্লাবটি তাদের বিদেশী খেলোয়াড়দের নিবন্ধনে কাটছাঁট করায় দলছুট হতে হয়েছিল নুনেজকে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ থাকা উরুগুয়ে আগামী ১৫ জুন মায়ামির মাটিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট স্পেন। ‘অপটা’ সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী, এই গ্রুপ থেকে উরুগুয়ের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩.৪ শতাংশ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ ২০ শতাংশ।
তবে সুয়ারেজকে ছাড়া উরুগুয়ে তাদের ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি ঘরে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন দলটির সমর্থকেরা।
