ফুটবল মহাযজ্ঞের কাউন্টডাউন শুরু হতেই উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম আর চড়া আর্দ্রতা নিয়ে ইউরোপের দলগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। তবে এই বৈরী আবহাওয়া থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দলের আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চিড় ধরাতে পারছে না। সোমবার থ্রি-লায়ন্সদের হেড মাস্টার টুখেল হুংকার দিয়ে বলেছেন, তীব্র গরম আর আর্দ্রতা অবশ্যই বড় বাধা, কিন্তু তাঁর দলের খেলোয়াড়দের যে সামর্থ্য রয়েছে, তাতে এবার বিশ্বকাপে অনেক দূর যাবে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে আমেরিকার আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সোমবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ড দলের একটি বড় অংশ মায়ামির উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছে। সেখানে ১০ দিনের একটি বিশেষ ‘হট ওয়েদার’ ক্যাম্পে ঘাম ঝরাবেন হ্যারি কেইনরা।

তবে বুদাপেস্টে গত শনিবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি’র কাছে হেরে যাওয়া আর্সেনালের বুকায়ো সাকা, ডেক্লান রাইস, ননি মাদুয়েকে এবং এবারিশি এজে-কে একটু বাড়তি বিশ্রাম দিয়েছেন টুখেল। তাঁরা মায়ামির বিমান ধরবেন একটু দেরিতে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ক্রিস্টাল প্যালেসকে কনফারেন্স লিগ জেতানো গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনও দেরিতে ক্যাম্পে যোগ দেবেন; যার ফলে আগামী শনিবার ট্যাম্পায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি তাঁর মিস হতে যাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের স্কোয়াডের বাকি ২১ জন খেলোয়াড়, যাঁদের অনেকেই আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, তাঁরা সরাসরি ওয়েস্ট পাম বিচে এসে দলের সাথে যোগ দেবেন। স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টুখেল বলেন, ফ্লোরিডার এই ক্যাম্পের জন্য যখন আমি অনুশীলনের ছক সাজাচ্ছিলাম, তখন ছেলেদের পারফরম্যান্সের ভিডিও দেখে আবারও নতুন করে মুগ্ধ হয়েছি। এই দলে যে বিপুল কোয়ালিটি রয়েছে, তা দেখে নিমেষেই আমার আত্মবিশ্বাস এবং উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, এই দল এবার অনেক দূর যাবে।

অবশ্য একটি দীর্ঘ এবং হাড়ভাঙা খাটুনির ক্লাব মরশুম শেষ করে এসেই এই ধরণের ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতার মধ্যে খেলা যে মোটেও সহজ নয়, তা অকপটে স্বীকার করেছেন ইংলিশ বস। এমনকি মেক্সিকোতে ম্যাচ পড়লে সেখানকার উচ্চতাও ভোগাতে পারে খেলোয়াড়দের। টুখেল বলেন, আমরা এই ধরণের আবহাওয়ায় খেলে অভ্যস্ত নই। তবে আমরা হাত গুটিয়ে বসে নেই, সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ। কোন খেলোয়াড়ের শরীর গরমে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা আমাদের জানা আছে। সে অনুযায়ী আমরা বিশেষ ‘কুলিং স্ট্র্যাটেজি’ বা শরীর ঠাণ্ডা রাখার রণকৌশল তৈরি করেছি।
এই কাজের জন্য অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ‘টিম জিবি’ এবং বিশ্বের নামী চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। রোদ আর তীব্র গরমের মধ্যে ঠিক কতক্ষণ অনুশীলন করা উচিত এবং শরীরের ওপর যেন বাড়তি ধকল না যায়, তার নিখুঁত রুটিন তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর (২০২৫) জুন-জুলাই মাসে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে এই তীব্র গরম নিয়ে খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন এবং চিকিৎসকরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন; যেখানে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের ফিট হতে দীর্ঘ সময় লাগার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই গরমের দোহাই দিয়ে কোনো অগ্রিম অজুহাত খাড়া করতে রাজি নন টুখেল। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে চটকদার জবাব দিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আবহাওয়া আমাদের পক্ষে নেই এবং এটি একটি বড় বাধা, এটা সত্য। তবে তার মানে এই নয় যে আমরা এখন থেকেই হারের বাহানা খুঁজছি। বাধা আসবেই, আর থ্রি-লায়ন্সদের কাজই হলো সেই বাধাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ট্রফি ছিনিয়ে নেয়া!
