ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। তবে, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার গভীরতায় সবাইকে টেক্কা দিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন নোয়াখালীর সেনবাগের এক সাধারণ চা বিক্রেতা। বিশ্বকাপের ছোঁয়ায় সেনবাগের একটি আস্ত গ্রামকে তিনি রূপ দিয়েছেন ‘আর্জেন্টিনা নগরী’তে!

নিজের বাড়ি, দোকানঘর থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের গাছপালা, সব কিছুই এখন ঢেকে গেছে সাদা আর আকাশি রঙের চাদরে। আর এই কাণ্ডের মূল নায়ক আবুল কালাম আজাদের আসল নামই এখন হারিয়ে গেছে নোয়াখালীর ফুটবল আবেগের জোয়ারে; এলাকার সবাই এখন তাকে ডাকছেন ‘আর্জেন্টিনা আজাদ’!
সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে পেশায় একজন সাধারণ চা বিক্রেতা। তবে তাঁর এই রাজনৈতিক বা পেশাগত পরিচয় এখন গৌণ, তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি আর্জেন্টিনার এক জানবাজ ভক্ত।

ছোটবেলা থেকেই ম্যারাডোনা আর মেসির প্রেমে বুঁদ হয়ে থাকা আজাদ এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন। নিজের আস্ত বাড়ি এবং চা দোকানটিকে তো আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙিয়েছেনই, এমনকি বাড়ির আশপাশের গাছগুলোর গুঁড়িও রেহাই পায়নি; সেগুলোতেও শোভা পাচ্ছে আকাশি-সাদা রঙের পোঁচ! এখানেই শেষ নয়, গ্রামের সমস্ত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ছবি দিয়ে তৈরি করেছেন একটি বিশাল ৪০ ফুট দীর্ঘ ব্যানার, যা এখন গ্রামের প্রবেশমুখে সগৌরবে ঝুলছে।
আজাদের এই পাগলামি কেবল রঙ আর ব্যানারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একসাথে বসে খেলা দেখার জন্য বড় পর্দার ব্যবস্থা এবং খাওয়া-দাওয়ার এলাহী আয়োজনও সেরে ফেলেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় বোমটা ফাটিয়েছেন তাঁর এক রাজকীয় ঘোষণায়।

আজাদ বুক ঠুকে জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপে যদি তাঁর প্রিয় জাদুকর লিওনেল মেসির হাতে আবারও বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফি ওঠে, তবে পুরো এলাকাবাসীকে রাজকীয় ‘মেজবান’ খাওয়াবেন তিনি। আর এই মেজবানের খরচ জোগাতে যদি নিজের পকেট খালি হয়ে যায়, এমনকি চড়া সুদে ঋণও করতে হয়, তাতেও এক চুল পিছপা হবেন না এই ফুটবল পাগল মানুষটি!
বাপের এমন ফুটবলামো দেখে ঘরে বসে থাকেনি তাঁর দুই যোগ্য পুত্রও। বাবার এই মহাযজ্ঞে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিনরাত খাটছে তারা। চায়ের দোকানে আড্ডার চেয়ে এখন আজাদের ‘আর্জেন্টিনা নগরী’ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অন্য এলাকার ফুটবল ভক্তরা।

জিরুয়া গ্রামে পা রাখলেই মনে হবে যেন আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের কোনো এক গলিতে এসে পড়েছেন। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই নোয়াখালীর এই চা বিক্রেতার এমন নিখাদ ও জম্পেশ ভালোবাসা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে- বাঙালির ফুটবল আবেগের কোনো সীমানা নেই!
