বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই লিনেন কাপড়ের মতো টানটান উত্তেজনা, একদিকে আকাশি-সাদা আর্জেন্টিনার ভক্তকুল, অন্যদিকে হলুদ-সবুজের ব্রাজিলীয় সাম্বা। কিন্তু এবার বাঙালির এই চিরন্তন ফুটবল দ্বৈরথের মাঝেই এক অভিনব ও জম্পেশ ‘বোমা’ ফাটাল ইউরোপের দেশ নরওয়ে!
বাংলাদেশ যেহেতু এবারের বিশ্বকাপে খেলছে না, তাই ফুটবল পাগল বাঙালিদের কাছে তাদের প্রিয় দল হিসেবে নরওয়েকে বেছে নেয়ার এক দারুণ প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকাস্থ নরওয়েজিয়ান দূতাবাস। কেন আর্জেন্টিনার মেসি বা ব্রাজিলের নেইমারকে ছেড়ে হালান্ডের নরওয়েকে সমর্থন করবে বাংলাদেশ? ওসলোর পক্ষ থেকে দেয়া সেই যুক্তিগুলো যেমন চটপটে, তেমনই নিখাদ ভালোবাসায় মাখা!
দীর্ঘ ২৮ বছরের এক মহানির্বাসন কাটিয়ে এবার ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কামব্যাক করেছে নরওয়ে। আর এই বিশেষ মুহূর্তে তারা পাশে চায় তাদের অন্যতম পুরনো বন্ধু বাংলাদেশকে।
নরওয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে অল্প কয়েকটি দেশ প্রথমদিকে লাল-সবুজের পতাকাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, নরওয়ে তাদের অন্যতম।

দূতাবাস জানায়, আমাদের এই বন্ধন শ্রদ্ধা, ইতিহাস এবং অটুট বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ সবসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। সুতরাং, ইতিহাসের খাতিরে হলেও নরওয়ের পাশে দাঁড়ানোটা বাঙালির নৈতিক দায়িত্ব!
ফুটবল তো শুধু মাঠের খেলা নয়, সংস্কৃতিরও মিলনমেলা। নরওয়েজিয়ানরা রসিকতা করে জানিয়েছে, ভৌগোলিক ও খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে দুই দেশের মিল কিন্তু চমকপ্রদ। বাংলাদেশ যেমন নদীমাতৃক দেশ এবং সমুদ্রবেষ্টিত, নরওয়েও তেমনই এক উপকূলীয় দেশ, যা নদী আর সমুদ্রের ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে।
আর সবচেয়ে বড় মিল কোথায় জানেন? মাছের প্রতি ভালোবাসা! বাঙালি যেমন ‘মাছে-ভাতে’ বাঁচে, নরওয়ের মানুষেরও অন্যতম প্রধান ভালোবাসা হলো সমুদ্রের মাছ। অর্থাৎ, আমাদের ইলিশ আর ওদের স্যালমনের প্রেম এবার মিশে যেতে পারে ফুটবল মাঠে!
এর বাইরেও রয়েছে এক অদ্ভুত সাম্য। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল, আর নরওয়ে জনসংখ্যার দিক থেকে অতি ক্ষুদ্র হলেও অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে অনন্য। তবে দুই দেশই আকারে ছোট হতে পারে, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে দুই দেশের স্বপ্নই আকাশছোঁয়া! মাঠে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দুই দেশই সবসময় ‘ফেয়ার প্লে’ বা ন্যায়বিচারের পক্ষে সওয়াল করে।
এতসব যুক্তিতেও যারা মন গলাতে পারছেন না, তাদের জন্য নরওয়ে এবার হাজির করেছে তাদের ট্রাম্প কার্ড, বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং ব্রাউত হালান্ড! ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ-বিচূর্ণ করা এই গোলমেশিন একাই যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
আর অর্থনীতিবিদদের সাম্প্রতিক জরিপও বলছে, এবার বিশ্বকাপে নরওয়েই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ‘আন্ডারডগ’ বা কালো ঘোড়া, যারা যে কোনো জায়ান্টকে বধ করতে পারে।
তাহলে বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের চেনা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ছেড়ে এবার কি একটু নরওয়ের সেই ঠান্ডা হাওয়ায় গা ভাসানো যায়? ইতিহাস, মাছের প্রেম আর হালান্ডের অতিমানবীয় ফর্মের যুগলবন্দীতে এবার ‘আন্ডারডগ’ নরওয়ের হয়ে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানাচ্ছে ওসলো।
বাঙালি ফুটবল ভক্তরা এই দারুণ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ‘হলুদ-আকাশি’র বাইরে একটু ‘লাল-নীল’ নরওয়েজিয়ান জার্সির খোঁজ করবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: নতুন ফরম্যাট, নতুন চমক, প্রস্তুত বিশ্বমঞ্চ
‘গরম নিয়ে ফালতু প্যানপ্যানানি বন্ধ করুন’
বেলজিয়ামকে কঠিন সময় দিতে প্রস্তুত মিশরের কোচ