প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে টানা ৩৬ দিনের তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করে ইস্তফা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের কাছে এই ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখা হলেও, আন্দোলন কিন্তু এখনই থামছে না।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরপরই 'কাকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) সরকারের কাছে আরও তিনটি বকেয়া দাবি পেশ করেছে। দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি সভাপতি অভিজিৎ দীপকে জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনের শুধু একটি ধাপ।

তিনি আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ বিচার পেতে হলে সরকারকে নিম্নলিখিত দাবিগুলো মেনে নিতে হবে:
আর্থিক ক্ষতিপূরণ: পরীক্ষায় অনিয়ম ও মানসিক চাপের কারণে যে সকল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে অন্তত ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
পুলিশি হিংসার বিচার: গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে শান্তিপূণ পদযাত্রায় যে সকল পুলিশ সদস্য শিক্ষার্থীদের ওপর চরম বর্বরতা চালিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
মামলা প্রত্যাহার: ২০ জুলাই বা তার পর থেকে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

পরে সিজেপি তাদের অফিসিয়াল 'এক্স' হ্যান্ডেলে আরও এক নতুন দাবি দিয়ে জানায়, আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়নের জন্য র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং দিল্লি পুলিশকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে মাসখানেক আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে তরুণদের বেকারত্ব, সরকারি জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা নিজেদের রসিকতা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ‘কাকরোচ’ নামে অভিহিত করেন।
তবে গত সোমবার আন্দোলনের রূপ কিছুটা বদলে যায়, যখন হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে রওনা হলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পুলিশ বলপ্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

অভিজিৎ দীপকে বলেন, গত ৩৬ দিন ধরে যারা বলে আসছিলেন যে, এই সরকারের আমলে কেউ পদত্যাগ করে না, তাদের উদ্দেশ্যে আমি আবার বলতে চাই, মেধা ও ঐক্যের শক্তির সামনে বিশ্ব মাথা নোয়ায়। ভারতের যুবসমাজ প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা ঐক্যবদ্ধ হলে যে কোনো শক্তিকে নতিস্বীকার করতে এবং পদত্যাগে বাধ্য করতে পারে।
জন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত হাজার হাজার তরুণ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বকেয়া দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
